‘সত্য চাপা পড়বে না!’— হাইকোর্টে মমতার ভূমিকায় কড়া নিশানা শমীকের

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করে বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে উপস্থিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার বেলা দশটার কিছু পরেই আদালত চত্বরে তাঁর এই উপস্থিতি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ইতিপূর্বে দিল্লিতে আদালত চত্বরে তাঁকে দেখা গেলেও, এবার খোদ আইনজীবীর ভূমিকায় তাঁর এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিজেপির কড়া সমালোচনা ও পুরনো অভিযোগ
মমতা ব্যানার্জির এই পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি একে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরবর্তী সময়ে রাজ্যে যে নজিরবিহীন হিংসা ও ৫৬ জন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল, তার দায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এড়াতে পারেন না। তিনি আরও অভিযোগ তোলেন যে, সে সময় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং শাসকের আইনের কারণে সাধারণ মানুষ বিচার পায়নি। তাঁর মতে, বর্তমানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই পুরনো মামলাগুলো গতি পাচ্ছে।
নির্লিপ্ত মুখ্যমন্ত্রী ও পরবর্তী প্রভাব
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই আদালত সফর নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তাঁর হাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে এবং এই ধরনের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় তাঁর নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় মমতার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া রাজ্যে আইনি লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে। বিশেষ করে আইনি পোশাকে তাঁর এই উপস্থিতি একদিকে যেমন কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে এটি বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন কোনো মোড় আনার কৌশল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।