কেরলমে সতীশন-যুগ! হাইপ্রোফাইল নেতাদের টপকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হচ্ছেন বিরোধী দলনেতা

কেরলমে সতীশন-যুগ! হাইপ্রোফাইল নেতাদের টপকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হচ্ছেন বিরোধী দলনেতা

দীর্ঘ দশ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে কেরলমে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দশ দিনের টানাপোড়েন শেষে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বর্তমান বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীশনকে। কেসি বেণুগোপাল বা রমেশ চেন্নিথালার মতো প্রবীণ নেতাদের নাম আলোচনায় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সতীশনের হাতেই দক্ষিণ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের ব্যাটন তুলে দিল কংগ্রেস হাইকমান্ড।

নেতৃত্ব নির্বাচনে সতর্কতা ও কংগ্রেসের কৌশল

কর্নাটকের মতো দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়াতে কেরলমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ছিল দিল্লি। ১৪০ আসনের বিধানসভায় ১০২টি আসন পেয়ে বড় জয় পেলেও মুখ্যমন্ত্রী বাছাই নিয়ে দলের অন্দরে সংশয় ছিল। ৬৩টি আসনে জেতা কংগ্রেসের বিধায়কদের মতামত এবং শরিক দলগুলোর পছন্দের মেলবন্ধন ঘটাতে সময় নেয় হাইকমান্ড। হাই-প্রোফাইল নেতা কেসি বেণুগোপাল বা অভিজ্ঞ রমেশ চেন্নিথালাকে সরিয়ে সতীশনকে বেছে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও ব্যাপক জনমত।

জনপ্রিয়তা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি

ছয়বারের বিধায়ক ভিডি সতীশন কেরলমের রাজনীতিতে বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত। তিরুবনন্তপুরমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কংগ্রেস সভাপতিই নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করবেন। এআইসিসি-র পক্ষ থেকে দীপা দাশমুন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে সতীশনকে কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টি (সিএলপি) নেতা হিসেবে নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিজ্ঞতা নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং লড়াকু ইমেজই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছে।

পরিবর্তিত রাজনীতির প্রভাব

দশ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে কংগ্রেস নেতৃত্ব কেরলমে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে চাইছে। সতীশনকে সামনে রেখে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি আগামী লোকসভা নির্বাচনেও দক্ষিণ ভারতে দলের অবস্থান আরও মজবুত করতে চায় হাইকমান্ড। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং শরিক দলগুলোর সাথে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। সতীশনের এই উত্থান কেরল কংগ্রেসের তরুণ ও প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *