বড় পদক্ষেপ, কার্যকর হচ্ছে আংশিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয় ও খরচে সংযমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, সরকারি স্তরে জ্বালানি খরচ কমাতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সরকারি কর্মীদের জন্য আংশিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি যানবাহনের ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি।
কনভয় ও এসকর্ট ছাঁটাইয়ে নজির মুখ্যমন্ত্রীর
শুধুমাত্র সাধারণ কর্মীদের জন্যই নয়, খোদ মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও এই কৃচ্ছ্রসাধন অভিযানে শামিল হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিজেই তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন। তাঁর পথ অনুসরণ করে মন্ত্রী রতনলাল নাথ এবং সুশান্ত চৌধুরীও তাঁদের ব্যক্তিগত এসকর্ট গাড়ি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে এই ত্যাগ স্বীকারের বার্তা নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির অপচয় রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই সরকারি দপ্তরে যাতায়াত এবং গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এই কড়া পদক্ষেপ। আংশিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থার ফলে কোন কোন দপ্তর কীভাবে পরিচালিত হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখা দ্রুত তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ত্রিপুরার এই ‘মানিক মডেল’ আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্যের কাছেও উদাহরণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আকাশছোঁয়া জ্বালানির বাজারে এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।