তৃণমূলের ‘আক্ষেপ’ বনাম সজলের ‘স্বস্তি’, কুণালের ফেসবুক পোস্টে উত্তাল বিধানসভার অলিন্দ

বিধানসভায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব সৌজন্যের চিত্র ধরা পড়ল কুণাল ঘোষ এবং সজল ঘোষের মধ্যে। রাজনীতির ময়দানে একে অপরের কট্টর বিরোধী হলেও, বৃহস্পতিবার বিধানসভার অলিন্দে তাঁদের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের এক মন্তব্য এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচনার বিষয়।
কুণালের আক্ষেপ: তাপস ও সজলকে ধরে রাখতে পারেনি দল
এদিন শপথ নেওয়ার পর কুণাল ঘোষ সরাসরি স্বীকার করে নেন যে, তাপস রায় এবং সজল ঘোষের মতো নেতাদের দল ছাড়তে দেওয়াটা তৃণমূলের জন্য এক বড় ক্ষতি। তিনি বলেন, “তাপস রায় বা সজল ঘোষদের তৃণমূল ধরে রাখতে পারেনি। এটা দলের ব্যর্থতা। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের রাখার অনেক চেষ্টা করেছিলাম।” কুণালের এই অকপট স্বীকারোক্তি থেকে স্পষ্ট যে, পুরনো সতীর্থদের চলে যাওয়াটা তিনি এখনও সহজভাবে নিতে পারেননি।
সজলের পাল্টা: ‘কুণালদাই একমাত্র চেষ্টা করেছিলেন’
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “কুণালদা যেটা বলেছেন তা একদম ঠিক। তৃণমূলের ভেতরে একমাত্র উনিই আমাদের বোঝানোর বা আটকে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। আমি নিশ্চিত তাপসকাকুও (তাপস রায়) আমার এই কথার সঙ্গে একমত হবেন।” তবে একই সঙ্গে তিনি তৃণমূলের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের কপাল ভালো যে আজ আমরা মাথা উঁচু করে বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় ঘুরছি, নইলে এখনও হয়তো আমাদেরও চোর চোর শুনতে হতো।”
সৌজন্যের আড়ালে রাজনৈতিক ইঙ্গিত
দুই শিবিরের দুই নেতার এই পারস্পরিক প্রশংসা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জল্পনা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কুণাল ঘোষ যেখানে দলের একাংশের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই সরব হন, সেখানে বিরোধী দলের বিধায়কদের প্রতি তাঁর এই ‘নরম’ মনোভাব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, সজল ঘোষও কুণাল ঘোষের অবদানের কথা স্বীকার করে নিয়ে প্রকারান্তরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেই আঙুল তুলেছেন। বিধানসভায় এই সৌজন্যের বাতাবরণ আগামী দিনে শাসক-বিরোধী সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।