ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া হাইকোর্ট, ঘরছাড়াদের ফেরাতে পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি

রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের পর রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খল বজায় রাখতে পুলিশকে সম্পূর্ণ সক্রিয় হতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং এই কাজে কোনো রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।
নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ঘরছাড়াদের পুনর্বাসন
আদালতের নির্দেশে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, কোনো নাগরিককেই তাঁর ঘরবাড়ি বা দোকান থেকে জোরপূর্বক উৎখাত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক হিংসার কারণে যাঁরা ইতিমধ্যেই ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত এবং নিরাপদে নিজের বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার বোধ ফিরিয়ে আনতে এলাকাভিত্তিক টহলদারি বাড়াতে হবে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের পর হিংসার কোনো স্থান নেই এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।
বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের সম্ভাবনা
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে এই মামলার শুনানির জন্য ভবিষ্যতে পাঁচ বিচারপতির একটি বিশেষ বা বৃহত্তর বেঞ্চ তৈরি করা হবে কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে আদালত। তবে আপাতত বর্তমান ডিভিশন বেঞ্চই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান নতুন সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী পক্ষ এই নির্দেশকে স্বাগত জানালেও, শাসকদল তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা আদালতের নির্দেশ মেনেই শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আগামী দিনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ পালন নিয়ে হলফনামা তলব করতে পারে আদালত।