ন’মাসেই পুরনো পদে প্রত্যাবর্তন, কাকলিকে সরিয়ে ফের কল্যাণের হাতেই লোকসভার ব্যাটন

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় রাজনীতিতে আবারও বড়সড় রদবদল ঘটালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ন’মাসের ব্যবধানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ফের লোকসভার মুখ্যসচেতক (Chief Whip) হিসেবে নিযুক্ত করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত ও বর্তমান সাংসদদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন নেত্রী।
কালীঘাটের বৈঠকে মমতার বড় সিদ্ধান্ত
বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে দলের কৌশল নির্ধারণ এবং সংসদীয় দল পরিচালনার বিষয়ে আলোচনার মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, লোকসভায় চিফ হুইপ বা মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব ফের সামলাবেন বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদীয় রীতি এবং আইনি বিষয়ে কল্যাণের পারদর্শিতার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে এই পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
কল্যাণের ইস্তফা ও প্রত্যাবর্তন
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে আচমকাই লোকসভার মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর জায়গায় বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবারও সেই চেনা পদে ফিরলেন তিনি। মাঝের এই ন’মাস দলে অনেক পরিবর্তন এলেও সংসদের অন্দরে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে কল্যাণের লড়াকু মেজাজকেই নেত্রী বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের অন্দরে নতুন সমীকরণ
কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে কল্যাণকে ফেরানোকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে নতুন সমীকরণ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভায় দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সংসদীয় লড়াইকে আরও তীক্ষ্ণ করতেই অভিজ্ঞ এই সাংসদকে দায়িত্বে ফেরানো হলো। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত দলের অভিজ্ঞ ও পুরনো সৈনিকদের ওপর নেত্রীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী অধিবেশনে কল্যাণের নেতৃত্বে তৃণমূল সাংসদরা কীভাবে রণকৌশল সাজান, এখন সেটাই দেখার।