ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন টাকার, সর্বকালীন নিম্নস্তরে পৌঁছাল ভারতীয় মুদ্রা

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার পতন অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ফরেক্স মার্কেটে লেনদেন চলাকালীন টাকার দাম ০.২% কমে এক সময় সর্বকালীন নিম্নস্তর ৯৫.৯৫৭৫-এ পৌঁছে যায়। এর মাধ্যমে বুধবারের রেকর্ড পতনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ভারতের কারেন্সি।
টাকার দামের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান
- বৃহস্পতিবারের সর্বনিম্ন স্তর: ৯৫.৯৫৭৫ (প্রতি ডলার)
- বুধবারের সর্বনিম্ন স্তর: ৯৫.৭৯৫০ (প্রতি ডলার)
- বুধবারের ক্লোজিং দর: ৯৫.৭৬২৫ (প্রতি ডলার)
- চলতি বছরে মোট পতন: ৬%-এর বেশি
- এই সপ্তাহের পতন: ১.৩%-এর বেশি
পতনের নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াই টাকার এই বেহাল দশার মূল কারণ। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৯০% তেল আমদানি করে, ফলে তেলের দাম বাড়লে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং টাকার ওপর চাপ তৈরি হয়। এ ছাড়া বিদেশি লগ্নিকারীদের (FII) শেয়ার বাজার থেকে ক্রমাগত পুঁজি তুলে নেওয়াও মুদ্রার এই অবমূল্যায়নের জন্য দায়ী।
প্রতিরোধে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভূমিকা
পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ডলার বিক্রি করেছে বলে খবর। পাশাপাশি, সোনার ওপর আমদানি শুল্ক ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়েছে যাতে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখা যায়। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত এশিয়ার মুদ্রাগুলির মধ্যে পারফরম্যান্সের নিরিখে সবথেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ভারতীয় টাকা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিদেশি বন্ডে বিনিয়োগের কর হ্রাসের মতো বিকল্প ব্যবস্থাগুলিও খতিয়ে দেখছে।