আকাশ কাঁপাবে ভারতের এআই যোদ্ধা ‘কাল ভৈরব’! শত্রুপক্ষের ঘুম ওড়াতে আসছে এই বিশেষ যুদ্ধবিমান

আকাশ কাঁপাবে ভারতের এআই যোদ্ধা ‘কাল ভৈরব’! শত্রুপক্ষের ঘুম ওড়াতে আসছে এই বিশেষ যুদ্ধবিমান

প্রতিরক্ষা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে ভারত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ভারতের প্রথম উন্নত যুদ্ধবিমান ‘কাল ভৈরব’ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের এআই ওয়ারফেয়ার কো ম্পা নি ‘এফডব্লিউডিএ’ এবং পর্তুগালের নামী প্রতিষ্ঠান ‘স্কেচপিক্সেল’-এর যৌথ উদ্যোগে এই শক্তিশালী ড্রোন বা এআই এয়ারক্রাফট নির্মিত হতে যাচ্ছে। মূলত আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও সক্ষমতা

চুক্তি অনুযায়ী, পর্তুগিজ কো ম্পা নিটি এই বিমানের সিমুলেশন সিস্টেম তৈরিতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, মূল অটোনোমাস সিস্টেম এবং এয়ারফ্রেম ডিজাইনের দায়িত্ব পালন করবে ভারতীয় সংস্থা এফডব্লিউডিএ। কাল ভৈরব মূলত একটি ‘মেল’ (MALE – Medium Altitude Long Endurance) ক্যাটাগরির ড্রোন। এটি একটানা ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ২৫ ঘণ্টা এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত উড্ডয়ন করতে সক্ষম। ৩ হাজার কিলোমিটার রেঞ্জের এই বিমানটির ক্রুজ স্পিড প্রতি সেকেন্ডে ৪২ মিটার। এছাড়া এর এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং নিখুঁত সমন্বয় করতে পারদর্শী।

সাশ্রয়ী মূল্যে কৌশলগত আধিপত্য

কাল ভৈরব যুদ্ধবিমানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর নির্মাণ ব্যয়। আমেরিকার শক্তিশালী ‘এমকিউ-৯ রিপার প্রিডেটর’ ড্রোনের দাম যেখানে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা, সেখানে কাল ভৈরব তৈরিতে খরচ হবে মাত্র ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মার্কিন ড্রোনের তুলনায় এটি প্রায় ১০ গুণ সাশ্রয়ী। ভারত যদি এমন ১০টি এআই চালিত বিমান হাতে পায়, তবে আকাশসীমায় চীন বা পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশীদের মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।

প্রতিরক্ষা ও রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত

এই প্রকল্পটি ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। কাল ভৈরব কেবল ভারতীয় বিমানবাহিনী বা নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে এআই চালিত ‘সোয়র্ম টেকনোলজি’ বা দলগতভাবে আক্রমণকারী ছোট ড্রোনের গুরুত্ব বাড়বে। এই বিমান তৈরির মাধ্যমে ভারতে নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত হবে, যা দেশের সামরিক কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *