মরুভূমির বুকে নয়া বিপ্লব! ইরানকে টেক্কা দিতে ৩,৫০০ লরি নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিল আরব দুনিয়া

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তজনায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ গত দুই মাস ধরে কার্যত অবরুদ্ধ। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বাণিজ্য চরম সংকটের মুখে পড়েছিল। তবে ইরানের এই একাধিপত্য ও হুমকি মোকাবিলায় এবার মরুভূমির বুক চিরে বিকল্প স্থলপথ তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান।
মরুভূমির বিকল্প করিডোর ও বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ
সমুদ্রপথ রুদ্ধ হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে গালফ দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই স্থলপথটি চালু করেছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩,৫০০টি পণ্যবাহী লারি বা ট্রাক এই পথ ব্যবহার করে জরুরি পণ্য সরবরাহ করছে। নতুন এই রুট অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দরগুলো থেকে পণ্য বোঝাই করে লারিগুলো ওমান হয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলোতে পৌঁছাচ্ছে। সেখান থেকে পুনরায় জাহাজে করে পণ্য চলে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। সমুদ্রপথের তুলনায় এই স্থলপথে পরিবহণ খরচ কিছুটা বেশি হলেও, ইরানের সামরিক হুমকি এড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যের জন্য একেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
ভূ-রাজনীতি ও বৈশ্বিক সরবরাহে প্রভাব
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এই বিকল্প পথটি একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলপথের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এই স্থলপথ ব্যবহার করায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন) বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই রুটের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব কমিয়ে দেবে এবং গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর বাণিজ্যিক নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে। ইরানের অবরোধের মুখে এই বিকল্প পথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বর্তমানে একটি অপরিহার্য রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে।