গতি কেমন প্রকল্পের? ২১ মে পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলাকে নিয়ে হাইভোল্টেজ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/15/suvendu-adhikari-2026-05-15-15-15-48.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। শপথ গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় জেলাস্তরের উন্নয়নমূলক কাজের গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২১ মে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছেন তিনি। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান— এই পাঁচ জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান নিতেই মূলত এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলিকে এই বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ পাওয়ার পরপরই শুক্রবার থেকেই জেলা প্রশাসনের কর্তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি বৈঠক শুরু করে দিয়েছেন। জানা গেছে, সময় ও সরকারি খরচ বাঁচাতেই এই পাঁচ জেলাকে আলাদাভাবে না ডেকে একসঙ্গে এক ছাতার তলায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি ও ধীরগতির কারণ অনুসন্ধানে জোর
মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রে খবর, এই পাঁচ জেলায় বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কোন কোন প্রকল্পের কাজ চলছে, সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী এবং কোন কোন কাজ ধীরগতিতে চলছে— তার একটি সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত রিপোর্ট বৈঠকে পেশ করতে বলা হয়েছে। শুধু আমলাতান্ত্রিক রিপোর্টই নয়, জনপ্রতিনিধিদের মতামতকেও এই প্রক্রিয়ায় সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ, শনিবার থেকেই এই পাঁচ জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। বিধায়করা নিজ নিজ এলাকায় কোন কোন উন্নয়নমূলক কাজের প্রস্তাব দিচ্ছেন, তারও একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীকে জমা দিতে বলা হয়েছে।
স্বচ্ছ প্রশাসন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য
ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার ‘স্বচ্ছ প্রশাসন’ পরিচালনায় বদ্ধপরিকর। এখনও রাজ্য মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বিস্তার না হলেও, আগামী ২২ জুন নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। তার আগেই রাজ্যের পরিকাঠামো খাতের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে দপ্তরে দপ্তরে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট পেশের আগে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির বাস্তব চিত্র বুঝে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই পর্যালোচনার ফলে একদিকে যেমন ধীরগতিতে চলা প্রকল্পগুলির গতি বাড়ানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে আগামী বাজেটে গ্রামীণ ও শহরতলির পরিকাঠামো উন্নয়নে সঠিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা সহজ হবে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে এই বৈঠক একটি মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।