‘ইরানের হাতে পরমাণু বোমা নয়’, বেজিংয়ে ট্রাম্প-জিনপিং ঐতিহাসিক বৈঠক

‘ইরানের হাতে পরমাণু বোমা নয়’, বেজিংয়ে ট্রাম্প-জিনপিং ঐতিহাসিক বৈঠক

আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য থেকে শুরু করে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে চরম উত্তেজনা থাকলেও, ইরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু বোমা না পায় সে বিষয়ে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেজিংয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক, সেই বিষয়ে চিনা প্রেসিডেন্টও তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করেছেন।

যদিও দুই দেশের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের তাইওয়ান দ্বন্দ্ব এই বৈঠকে মেটেনি, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর প্রশ্নে দুই পরাশক্তিকে একই সুরে কথা বলতে দেখা গেছে। চিনা প্রেসিডেন্ট জিনপিংকে একজন ‘অসাধারণ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁরা এমন কিছু বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান সূত্র খুঁজে পেয়েছেন যা অন্য কেউ পারত না।

ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো চিন। ফলে তেহরানের ওপর বেজিংয়ের একচেটিয়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা করছেন, চিন এবার সেই প্রভাব খাটিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, অবিলম্বে এই সংঘাত বন্ধ হওয়া এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও চিন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

বৈঠক শেষে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি ইরান প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য না করলেও, ট্রাম্পের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে একটি ‘অসাধারণ মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার এই সংঘাত একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দিনের পর দিন এটি চলতে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কমাতে চিন ও আমেরিকা উভয়েরই স্বার্থ জড়িত রয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি অবাধে চলতে থাকলে তা সমগ্র এশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে—এই আশঙ্কাই দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে এক টেবিলে এনেছে।

যদি চিন সত্যিই ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পরমাণু প্রকল্প থেকে তাদের বিরত রাখতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সাথে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিরাপদ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতি ফিরবে। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে এখনো দুই দেশের বরফ না গলার কারণে এই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ পায় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *