হরমুজ সংকটের আবহে মোদীর ইউএই সফর সফল, এলপিজি ও প্রতিরক্ষায় মিলল বিশেষ নিশ্চয়তা

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালীর সংকটের মাঝেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) সফরে গিয়ে বড়সড় কূটনৈতিক সাফল্য পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার আবু ধাবিতে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সফর ও চুক্তি ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কৌশলগত প্রতিরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি
দুই দেশের বৈঠকে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের কাঠামো সংক্রান্ত একটি বড় চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসদমন এবং সামরিক সমন্বয়ের মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও একধাপ এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করতে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ এবং দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি (রান্নার গ্যাস) সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ চুক্তি সই হয়েছে। বর্তমান সংকটের সময়ে ভারতের বাজারে এলপিজি ও অপরিশোধিত তেলের নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রাখতে এই চুক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা এসেছে এই সফর থেকে। ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্র, আরবিএল ব্যাঙ্ক এবং সম্মান ক্যাপিটালে মোট ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পাশাপাশি সমুদ্র বাণিজ্যের পথ সুগম করতে গুজরাতের ভাদিনারে একটি আধুনিক শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার গড়ে তোলার বিষয়েও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভারতের অবস্থান
আবু ধাবিতে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিশেষ গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় এবং ইউএই বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান তাঁর বিমানকে এসকর্ট করে। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমিরশাহির উপর হওয়া সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা করেন মোদী। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামগ্রিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে যাতে জ্বালানির ঘাটতি না তৈরি হয় এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকে, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করল নয়াদিল্লি।