উন্নয়নের রিপোর্টে কী উঠে এল? পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলাকে তলব মুখ্যমন্ত্রীর, বাড়ল জল্পনা!

উন্নয়নের রিপোর্টে কী উঠে এল? পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলাকে তলব মুখ্যমন্ত্রীর, বাড়ল জল্পনা!

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে গতি আনতে তৎপর হলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সপ্তাহ খানেকের মাথায় জেলাস্তরে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে প্রথম বড় বৈঠক ডাকলেন তিনি। আগামী ২১ মে পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান—এই পাঁচ জেলার উন্নয়ন খতিয়ান ও সরকারি প্রকল্পগুলির বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে জেলা প্রশাসনগুলিকে এই বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে এবং খরচ ও সময় বাঁচাতে পাঁচটি জেলাকে একই সঙ্গে বৈঠকে ডাকা হয়েছে।

উন্নয়নের গতি ও প্রকল্পের হালহকিকত জানার চেষ্টা

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই জেলাগুলিতে এই মুহূর্তে কোন কোন সরকারি প্রকল্পের কাজ চলছে এবং সেগুলির অগ্রগতি কেমন, তা বিস্তারিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যে সমস্ত কাজ ধীরগতিতে চলছে বা আটকে রয়েছে, সেগুলির সুনির্দিষ্ট কারণসহ একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট বৈঠকে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কড়া বার্তার পর শুক্রবার থেকেই জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি বৈঠক শুরু করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, জেলা স্তরের বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে শনিবার থেকেই এই পাঁচ জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে জেলা প্রশাসন। বিধায়করা নিজ নিজ এলাকার জন্য কী ধরনের কাজের প্রস্তাব দিচ্ছেন, তার একটি চূড়ান্ত তালিকাও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় চলছে।

বাজেটের আগে প্রশাসনিক সক্রিয়তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে। আগামী ২২ জুন নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বিস্তার এখনও না হলেও, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো খাতের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বাজেট প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন দপ্তরে দপ্তরে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির বাস্তব চিত্র এবং প্রয়োজনীয়তার খতিয়ান হাতে থাকলে বাজেটে বরাদ্দ নির্ধারণ করা অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে, শপথ নেওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী যে স্বচ্ছ ও গতিশীল প্রশাসনের বার্তা দিয়ে আসছিলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জেলা স্তরের আমলাতন্ত্রের কাছেও একটি কড়া বার্তা গেল যে, জনকল্যাণমূলক কাজে কোনো রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *