NEET-UG পেপার ফাঁসের পর্দাফাঁস! এবার মুখ খুলবে মূল চক্রী কুলকার্নি, জালে CBI-এর

জাতীয় যোগ্যতা অর্জন ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET-UG) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার সবচেয়ে বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এই কেলেঙ্কারির মূল হোতা তথা মাস্টারমাইন্ড পি. ভি. কুলকার্নিকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, এই কুলকার্নিই ছিল প্রশ্ন ফাঁসের মূল উৎস। তার গ্রেফতারির পর এবার এই চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে, তার প্রতিটি রহস্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যেভাবে চলত প্রশ্ন ফাঁসের কারবার
তদন্তে জানা গেছে, পুণের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রসায়নের অধ্যাপক পি. ভি. কুলকার্নি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এই সুবাদেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পর্যন্ত অনায়াসে পৌঁছে যেতে পেরেছিলেন তিনি।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে কুলকার্নি এই চক্রের আরেক অভিযুক্ত মনীষা ওয়াঘমারের সহায়তায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে একত্রিত করেন। এর আগে গত ১৪ মে সিবিআই মনীষাকে গ্রেফতার করেছিল। সিবিআইয়ের সূত্র অনুযায়ী, পুণেতে নিজের বাড়িতেই ওই পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ কোচিং ক্লাসের আয়োজন করেছিলেন কুলকার্নি। সেখানে তিনি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তরগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মুখস্থ করিয়েছিলেন।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদ এবং নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়েই এই জালিয়াতি করা সম্ভব হয়েছে। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক কীভাবে প্রশ্নপত্রের নাগাল পেলেন, তা এনটিএ-এর সুরক্ষা কবচকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এই গ্রেফতারির ফলে আগামী দিনে নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ঘটতে পারে। একই সঙ্গে, টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনে নেওয়া বাকি পরীক্ষার্থী এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য প্রভাবশালী মাথাদের চিহ্নিত করা এখন সিবিআইয়ের জন্য অনেকটাই সহজ হবে। তবে এই কেলেঙ্কারির জেরে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ যোগ্য ও পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং মানসিক অবস্থার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।