বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়জয়কার, ইউএই এবং ইরান দ্বন্দ্বে ব্রিকস বৈঠকে পাকিস্তানের স্ববা প্নভঙ্গ!

বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়জয়কার, ইউএই এবং ইরান দ্বন্দ্বে ব্রিকস বৈঠকে পাকিস্তানের স্ববা প্নভঙ্গ!

নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক নয়া সমীকরণ সামনে এসেছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত নিরসনে ভারতকে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। রাশিয়ার এই অবস্থান বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর বড়সড় ধাক্কা দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে পাকিস্তান নিজেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তবে রাশিয়ার স্পষ্ট দাবি, যদি দুই দেশের মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের প্রয়োজন হয়, তবে ভারতের ব্যাপক কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিই এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকট ও ভারতের গ্রহণযোগ্যতা

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে আশ্রয় দিয়েছিল, যা আমেরিকার ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে ইরানও পাকিস্তানকে মার্কিন চাপে কাজ করার জন্য অভিযুক্ত করেছে।

এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। নয়াদিল্লি ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষের সাথেই অত্যন্ত সুষম ও সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। ইরানের সাথে ভারতের জ্বালানি ও চাবাহার বন্দরের মতো সংযোগ অংশীদারিত্ব রয়েছে, আবার আমেরিকার সাথেও দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

ব্রিকস বৈঠকে ভারতের এই নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে পণ্য সংকটের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব পড়বে চিন ও ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতেও।

এই সংকটের সমাধান হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সাফ জানিয়েছেন, শান্তি খণ্ড খণ্ডভাবে অর্জন করা সম্ভব নয় এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থেই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জরুরি। রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থনের পর, বিশ্বমঞ্চে ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও জোরালো হবে এবং পাকিস্তান এই কূটনৈতিক দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *