নন্দীগ্রামের হাইপ্রোফাইল আসনে প্রার্থী কে, মোদীর উপদেষ্টাকে ঘিরেই কি তবে নতুন চমক

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিয়ে ভবানীপুর নিজের হাতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। টানা ১০ বছর নিজের দখলে রাখা নন্দীগ্রাম আসনটি মুখ্যমন্ত্রী ছাড়তেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা, ঐতিহাসিক এই কেন্দ্রের রাশ এবার কার হাতে যাচ্ছে? এই দৌড়ে বিজেপির অন্দরমহল থেকে দুটি নাম সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে। প্রথমজন হলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল এবং দ্বিতীয়জন শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাদ সাহা। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ওজনদার প্রার্থী হিসেবে সঞ্জীব সান্যালই এই মুহূর্তে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন।
অর্থনীতির হাল ফেরাতে বড় ভরসা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের (EAC-PM) অন্যতম সদস্য সঞ্জীব সান্যাল দেশের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ। শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও তাঁর সস্ত্রীক উপস্থিতি এবং আদ্যোপান্ত বাঙালি পোশাকে উপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই অর্থ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। নতুন বিজেপি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এই মুহূর্তে দলে অর্থনীতির গভীর জ্ঞানসম্পন্ন কোনো বিধায়ক নেই। এই শূন্যতা পূরণে এবং রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে সঞ্জীব সান্যালকে নিয়ে আসার প্রস্তুতিই চলছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অতীতে এস জয়শঙ্কর বা হরদীপ সিং পুরীর মতো পেশাদার ও আমলাদের শীর্ষ রাজনীতিতে নিয়ে আসার নজির বিজেপিতে রয়েছে, ফলে সঞ্জীব সান্যালের ক্ষেত্রেও তেমন পদক্ষেপ আসাম্ভব নয়।
ঐতিহাসিক শিকড় ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
সঞ্জীব সান্যাল শুধু একজন বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদই নন, তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার গভীর ঐতিহাসিক শিকড়। তিনি প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী শচীন্দ্রনাথ সান্যালের প্রপৌত্র। ইদানীং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারেও তাঁকে বাংলার অর্থনৈতিক পতন ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে সরব হতে দেখা গেছে। তবে তিনি যদি শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের প্রার্থী ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হন, তবে তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে এক কঠিন পরীক্ষা।
তথ্য বলছে, ১৯৬০-৬১ সালে দেশের জিডিপিতে বাংলার অবদান যেখানে ছিল ১০.৫ শতাংশ, তা ২০২৩-২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৬ শতাংশে। এক সময়ের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাজ্য এখন ২৪ নম্বরে পিছিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের ঘাড়ে চেপে থাকা ৭.৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণ সামলানো এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বাড়ানোই হবে নতুন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সঞ্জীব সান্যালের মতো একজন বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক ও রাজ্যের অর্থ দপ্তরের দায়িত্বে এনে বিজেপি মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।