জাল শংসাপত্রের রমরমা রুখতে শুভেন্দু সরকারের নজিরবিহীন পদক্ষেপ!

রাজ্যে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ২০১১ সাল থেকে ইস্যু করা প্রায় পৌনে দুই কোটি এসসি, এসটি এবং ওবিসি শংসাপত্র পুর্নযাচাই করার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর। সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
যাচাইয়ের আওতায় পৌনে দুই কোটি নথি
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে তফসিলি জাতি (এসসি) হিসেবে প্রায় ১ কোটি, তফসিলি উপজাতি (এসটি) হিসেবে ২১ লক্ষ এবং ওবিসি হিসেবে ৪৮ লক্ষ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৪৭.৮০ লক্ষ শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে বিগত সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির থেকে। বর্তমানে এই সমস্ত শংসাপত্রের সত্যতা ও বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুরুতর প্রশ্ন ওঠায় জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বেআইনিভাবে বা ভুল তথ্য দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে সংরক্ষণের সুবিধা না নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রুটিনির সিদ্ধান্ত। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পরই মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, শংসাপত্র নিয়ে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো আধিকারিকের নিয়মবহির্ভূত কাজের প্রমাণ মেলে, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে ভুয়ো সার্টিফিকেটধারীদের চিহ্নিত করে যেমন কড়া শাস্তি দেওয়া সম্ভব হবে, তেমনই প্রকৃত অনগ্রসর শ্রেণির মানুষেরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।