ডলারের ধাক্কায় কাঁপছে ভারতীয় টাকা! রেকর্ড পতনের নেপথ্যে আসল কারণটা কী?

আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মূল্যে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে টাকার দাম রেকর্ড ভেঙে ৯৬-এর ঘরে পৌঁছে যায়। আন্তঃব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে এক ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫.৯৫ টাকা, যা ভারতের অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কিন ডলারের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়াই টাকার এই ধারাবাহিক পতনের মূল কারণ।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তেলের বাজারে আগুন
টাকার এই ঐতিহাসিক পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতকে ডলারের মাধ্যমে অনেক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা সরাসরি দেশীয় মুদ্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক থেকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় বিশ্ব বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। তাইওয়ান সংকট এবং ইরানের তেল ক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমেরিকার অনড় অবস্থান ডলারের সূচককে ৯৯.০৫ পয়েন্টে নিয়ে গেছে। এই মুদ্রা সংকোচনের ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যার জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তবে টাকার পতন রুখতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড় দেওয়ার মতো কিছু সরকারি পদক্ষেপের কারণে বাজারে সামান্য পুঁজি ফিরছে, যা আগামী দিনে মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে।