গাজায় ইজরায়েলি বিমান হানা: নিশানা হামাসের সামরিক প্রধান আল-হাদ্দাদ, মৃত অন্তত ৭

গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজা সিটিতে চালানো একটি বড়সড় বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখা ‘কাসাম ব্রিগেডস’-এর প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে নিশানা করেছে ইজরায়েল। তবে হামলায় আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন নাকি গুরুতর আহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। এই হামলা প্রসঙ্গে হামাসের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত বার্তা দেওয়া হয়নি।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যার এই অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিলেন কাসাম ব্রিগেডের শীর্ষনেতা আল-হাদ্দাদ। ইজরায়েলি প্রশাসনের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইজরায়েল ভূখণ্ডে হওয়া নজিরবিহীন হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন এই আল-হাদ্দাদ।
একই সন্ধ্যায় জোড়া হামলা এবং প্রাণহানি
শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজা সিটিতে অন্তত দুটি পৃথক বিমান হামলা চালায় ইজরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে একটি হামলা চালানো হয় একটি আবাসিক ভবনে এবং অন্যটি একটি চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে। ‘প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র সরায়া ফিল্ড হাসপাতাল এবং শিফা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া হামলায় অন্তত ৭ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তবে আল-হাদ্দাদ এর মধ্যে কোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, তা ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সুনির্দিষ্ট করে জানায়নি।
হামলার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
৭ অক্টোবরের হামলার মূল হোতাদের নির্মূল করার দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবেই ইজরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। গত অক্টোবর মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও গাজায় ইজরায়েলি সামরিক অভিযান কার্যত থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ইজরায়েলি হামলায় ৮৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
আল-হাদ্দাদকে নিশানা করার পর গাজা সিটির বেশ কয়েকটি এলাকায় ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে আরও দফায় দফায় বোমাবর্ষণ করা হয়, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদি এই হামলায় হামাস সামরিক প্রধানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়, তবে তা হামাসের প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর বড় ধাক্কা দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতময় ও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।