“সে আর সন্ত্রাস ছড়াতে পারবে না!” নাইজেরিয়ায় মার্কিন হানায় রক্তক্ষয়ী আইএস নেতার পতন

“সে আর সন্ত্রাস ছড়াতে পারবে না!” নাইজেরিয়ায় মার্কিন হানায় রক্তক্ষয়ী আইএস নেতার পতন

ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও সংগঠনের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছে। নাইজেরিয়ার মাটিতে মার্কিন সেনা ও নাইজেরীয় সশস্ত্র বাহিনীর অত্যন্ত জটিল এবং সুপরিকল্পিত এক অভিযানে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে খতম করা সম্ভব হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই সফল অভিযানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের বড়সড় হামলার ছক কষছিল এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেতা।

দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় ‘ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স’ (ISWAP)-এর সিনিয়র কমান্ডার হিসেবে কাজ করছিল এই আবু-বিলাল, যা আবু বকর মুহাম্মদ আল-মাইনুকি নামেও পরিচিত ছিল। আইএসের বৈশ্বিক অর্থায়ন, সাংগঠনিক পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী সেল পরিচালনার মূল হোতা ছিল সে। তার এই আর্থিক ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণেই ২০২৩ সালের জুনে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাকে ‘বিশেষভাবে মনোনীত আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ (SDGT) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। আফ্রিকার মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।

আইএসের অর্থায়ন ও নেটওয়ার্কে বড় বিপর্যয়

আবু-বিলালের মৃত্যুর ফলে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে আফ্রিকায় আইএসের কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থায়নের উৎসগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, আল-মিনুকির অপসারণ আফ্রিকার আইএস নেটওয়ার্কের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও, সংগঠনটির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর কারণে এখনই একে সম্পূর্ণ নির্মূল বলা যাচ্ছে না। তবে এই অভিযানের ফলে আইএসের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে, যা তাদের ভবিষ্যৎ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গতি কমিয়ে দেবে।

আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কৌশলের পটভূমি

নাইজেরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অভিযান নতুন নয়। এর আগেও উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার আইএস ক্যাম্পগুলোতে জোরালো বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর আইএসের ধারাবাহিক নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সামরিক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়। তাছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও সিরিয়ায় আইএসের ৩০টিরও বেশি ঘাঁটিতে মনুষ্যবিহীন ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বড়সড় পরিকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। নাইজেরিয়ার এই সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানটি মূলত আফ্রিকার মাটিতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী সামরিক কৌশলেরই একটি ধারাবাহিক অংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *