নৈহাটির বড়োমা মন্দিরে শেষ হলো রাজনৈতিক অধ্যায়, বন্ধ হচ্ছে ভিআইপি সংস্কৃতি!

নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়োমা মন্দিরের পরিচালনা কমিটিতে এক বড়সড় রদবদল ঘটে গেল। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে মন্দিরের বিদায়ী পরিচালনা কমিটি। বিধায়কের স্পষ্ট বার্তা, মন্দির পরিচালনায় কোনও ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না এবং এখন থেকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে সেবায়েতদের হাতে। এই সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাস্টি বোর্ডের একটি জরুরি বৈঠকে কমিটি ভেঙে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিদায়ী কমিটির সভাপতি তথা পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে এবং কাউন্সিলর-পুত্র অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত বিদায়ী সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্যই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাবেন।
রদবদলের কারণ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
মূলত ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের বদলই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শাসকদলের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা এই মন্দির কমিটির শীর্ষে ছিলেন। কিন্তু বিধানসভা উপনির্বাচনে বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের জেরে স্থানীয় স্তরে ক্ষমতা হাতবদল হতেই মন্দির কমিটিতেও তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। নতুন বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় ক্ষমতার রাশ হাতে নিয়েই মন্দিরের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনকে রাজনীতিমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন, যার জেরে এই পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে মন্দিরের ভিআইপি সংস্কৃতির ওপর। বড়োমা মন্দিরে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার সাধারণ ভক্ত আসেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দেন। নতুন নির্দেশে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কারও জন্য বিশেষ কোনও সুবিধা থাকবে না। এমনকি বিধায়ক নিজে এলেও সাধারণ মানুষের মতোই লাইনে দাঁড়াবেন। এর ফলে সাধারণ ভক্তদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত হবে এবং পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের সমতা তৈরি হবে। তবে আচমকা এই পরিবর্তনের ফলে নতুন কমিটি গঠনের আগে পর্যন্ত উৎসব বা বিশেষ পুজোয় ভিড় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সাময়িক প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা তৈরি হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।