জ্বালানি বাঁচাতে এবার সুপ্রিম কোর্টেও ভার্চুয়াল শুনানি, দেশজুড়ে জোরদার কৃচ্ছ্রসাধন

বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং পেট্রোপণ্য সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সেই সাশ্রয় নীতির ডাকে সাড়া দিয়ে এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সপ্তাহে দু’দিন সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল বা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মামলার শুনানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নির্দেশে আগামী জুন ও জুলাই মাসের আংশিক কার্যদিবসে এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতি সোম ও শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত মামলার শুনানি শুধুমাত্র অনলাইনেই সম্পন্ন হবে। বাকি কার্যদিবসগুলিতে অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাইব্রিড মোডে আদালত চলবে, যেখানে আইনজীবীরা চাইলে সশরীরে অথবা অনলাইনে অংশ নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, জ্বালানি খরচ কমাতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা নিজেরাও কারপুলিং বা গাড়ি ভাগাভাগি করে আদালতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সাথে শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সপ্তাহে সর্বোচ্চ দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের হিড়িক
জ্বালানি ও গ্যাসের খরচ নিয়ন্ত্রণ, সোনা না কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আর্জির পর দেশজুড়ে এক ব্যাপক পরিবর্তনের ঢেউ শুরু হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা ইতিবাচক সাড়া দিয়ে নিজেদের গাড়ির খরচ ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন। একই সাথে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্কুল-কলেজের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কাজ পুনরায় অনলাইন মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে, যাতে রাস্তায় যানবাহনের চাপ এবং জ্বালানির ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়।
অর্থনৈতিক সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্ব বাজারের ধাক্কায় ভারতের আমদানিকৃত তেলের খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই ধরণের কৃচ্ছ্রসাধন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের মতো দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান যখন এই সাশ্রয় নীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তখন তা অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রকেও উদ্বুদ্ধ করবে। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে ডিজিটাল পরিকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। তবে আংশিক ভার্চুয়াল ব্যবস্থার কারণে আদালতের জরুরি প্রশাসনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এবং দূর থেকে কাজ করা কর্মীদের সবসময় যোগাযোগের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।