আন্দামানে বর্ষার ধুমধাম এন্ট্রি হলেও দক্ষিণবঙ্গে অধরাই রইল স্বস্তি!

আন্দামানে অবশেষে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপের জেরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বর্ষার হাওয়া। এই জোড়া আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেও দক্ষিণবঙ্গের কপালে এখনই স্থায়ী স্বস্তি নেই। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোয় আপাতত ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দক্ষিণে শুধুই ক্ষণিকের স্বস্তি
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী সোম ও মঙ্গলবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরের জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
অন্য দিকে, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এখনই একটানা বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। শনিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির গণ্ডি পার করেছে এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৪ শতাংশে পৌঁছানোয় চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া এবং বর্ধমানের মতো কিছু জেলায় বিকেলের দিকে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া ও ক্ষণিকের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
আগামী দিনে বাড়বে গরম ও অস্বস্তি
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি জলীয় বাষ্প টানার কারণে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাত বাড়ালেও, দক্ষিণবঙ্গে তার প্রভাব সীমিত। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে। ফলে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে তাপমাত্রা এবং ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণবঙ্গে পাকাপাকিভাবে বর্ষার আগমন কবে ঘটবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো বার্তা দিতে পারেনি হাওয়া অফিস।