ডিভোর্সের পর রাত ২টোয় নবনীতার সঙ্গে জীতু! হঠাৎ এই ‘মিডনাইট মিটিং’-এর নেপথ্যে কে?

টলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি জীতু কমল ও নবনীতা দাসের বিচ্ছেদের পর কেটে গিয়েছে আড়াই বছর। ২০২৪ সালে তাঁদের আইনি বিচ্ছেদের পর থেকে টলিপাড়ার অন্দরে নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও, দুজনকে একসঙ্গে আর দেখা যায়নি। তবে সব সমীকরণ বদলে গেল এক শুক্রবারের গভীর রাতে। রাত ২টোর সময় প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে আইসক্রিম হাতে খুনসুঁটিতে মেতে ফেসবুক লাইভে ধরা দিলেন জীতু কমল। বিচ্ছেদের তিক্ততা ভুলে এই আকস্মিক পুনর্মিলন টলিপাড়া থেকে শুরু করে অনুরাগী মহল— সবখানেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তবে এই নস্ট্যালজিয়ার নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক তীব্র রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সংঘাত, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী ও সাংসদ সায়নী ঘোষ।
ভার্চুয়াল বাকবিতণ্ডা ও বিস্ফোরক দাবি
এই আকস্মিক ঘটনার সূত্রপাত মূলত জীতু কমল ও সায়নী ঘোষের মধ্যকার একটি তীব্র ভার্চুয়াল বাকবিতণ্ডা থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে আক্রমণ করার মাঝেই সায়নী ঘোষ একটি বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান যে, জীতুর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা দাস নাকি জীতুর কিছু ‘কুকর্ম’ সংক্রান্ত বিষয় অবগত করার জন্য আলাদা করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। সায়নীর এই ‘কুকর্ম সংক্রান্ত’ মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নিজের সততা প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন জীতু। ফলস্বরূপ, সায়নীর দাবিকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করতেই বিচ্ছেদের পর এই প্রথম প্রাক্তন স্ত্রীর মুখোমুখি হন এবং তাঁকে পাশে নিয়ে লাইভে আসেন অভিনেতা।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে বন্ধুত্বের বার্তা
সায়নী ঘোষের করা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়ে জীতু কমল জানান, বাঙালি রাজনীতিবিদদের মধ্যে ডিভোর্স নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ির যে নোংরা সংস্কৃতি রয়েছে, তাঁরা তার ঊর্ধ্বে উঠতে চান। ডিভোর্সের পরেও যে আজীবন খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকা যায়, সমাজকে তাঁরা সেটাই দেখাতে এসেছেন। উল্লেখ্য, এই লাইভটি করা হয়েছিল কেন্দুয়া শান্তি সংঘের পুজো মণ্ডপের সামনে, যেখানে সায়নীর মুখের আদলে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হওয়া নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে সায়নীর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর পরোক্ষ অভিযোগ তোলেন জীতু, যা সমর্থন করে নবনীতাও মন্তব্য করেন যে পুজো কারও একার নয়, এটি সার্বজনীন।
অনুরাগী মহলে নতুন আশা ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০১৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই জুটির সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল জীতুর ‘অপরাজিত’ ছবির সাফল্যের পর। তবে দীর্ঘ আড়াই বছর পর এই দুই প্রাক্তনকে হাসিমুখে একফ্রেমে দেখে উচ্ছ্বসিত অনুরাগী মহল। অনেকের মতেই, সায়নী ঘোষ এখানে ‘ভিলেন’ হিসেবে হাজির হলেও, তাঁর পরোক্ষ প্রভাবেই আবার এক ছাদের নিচে এলেন জীতু ও নবনীতা। এই ঘটনার ফলে তাঁদের ভেঙে যাওয়া সংসার আবার জোড়া লাগবে কি না তা সময়ই বলবে, তবে সাময়িকভাবে এই ঘটনাটি টলিউডের অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতিকে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণকে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।