রেয়াত করা হবে না কোনো ভাঙচুর, আসানসোলের তাণ্ডবে এবার কড়া ‘যোগী মডেলে’র হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

রেয়াত করা হবে না কোনো ভাঙচুর, আসানসোলের তাণ্ডবে এবার কড়া ‘যোগী মডেলে’র হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বিধির বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লা এলাকা। সেখানকার স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে চালানো হলো ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বেনজিরভাবে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ধাঁচে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে সেই ক্ষতিপূরণ উসুল করা হবে দোষীদের পকেট থেকেই।

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের সরকারি টুরিস্ট হল ‘সাগরিকা’-তে জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে পুলিশি তৎপরতা চলছে। অশান্তি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর বার্তা

ডায়মন্ড হারবারের ওই প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালসহ জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ভাঙচুরের জেরে সরকারি সম্পত্তির যা ক্ষতি হয়েছে, তা অভিযুক্তদের থেকেই আদায় করা হবে। পুলিশের ওপর হামলা বা সরকারি সম্পত্তিতে হাত দিলে প্রশাসন যে আর চুপ করে বসে থাকবে না, সেই কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ বা কড়া দমন নীতির পথেই হাঁটতে চাইছে বর্তমান রাজ্য সরকার।

আইন সবার জন্য সমান

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের দোহাই দিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করা বা রাস্তা বন্ধ করা বরদাস্ত করা হবে না। শব্দদূষণ বিধি মেনে নির্দিষ্ট সীমার ওপরে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ এবং আইন যে সবার জন্য সমান, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে আরও স্বাধীন ও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কড়াকড়ির জেরেই এই আইন অমান্য ও ফাঁড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *