আমেদাবাদে আইপিএল ফাইনাল দেখতে আসছেন পাক বোর্ড প্রধান মহসিন নকভি? বিসিসিআই-এর আমন্ত্রণ ঘিরে তীব্র জল্পনা

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এক চমকপ্রদ পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী মে মাসের শেষ সপ্তাহে আমদাবাদে আইসিসির বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য হওয়ায় অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকেও এই বৈঠকে যোগদানের পাশাপাশি আইপিএল ফাইনাল দেখার জন্য সরকারিভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ৩০ বা ৩১ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা ফাইনাল ঘিরে এখন ক্রিকেট কূটনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
সম্পর্কের বরফ কি গলবে?
নকভির এই সম্ভাব্য ভারত সফর কেবল ক্রিকেটের বাইশ গজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কারণ তিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীও বটে। সাম্প্রতিক সময়ে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। এর আগে এশিয়া কাপের সময় থেকেই ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ভীষণ শীতল, যেখানে আইসিসির মধ্যস্থতায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কোনো দলই অপর দেশে খেলতে যাবে না। এমনকি এশিয়া কাপ জয়ের পর পিসিবি প্রধানের হাত থেকে ভারতীয় দলের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা এই দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
সফর ঘিরে সংশয়
এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতির কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে মহসিন নকভি কিংবা পিসিবির কোনো মনোনীত প্রতিনিধির এই বৈঠকে সশরীরে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কেউ ভারতে না আসেন, তবে তা দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও কূটনৈতিক দূরত্বকে আরও দীর্ঘায়িত করবে এবং আইসিসির আগামী টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ সূচি নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এক ঝলকে
- মে মাসের শেষ সপ্তাহে আমদাবাদে আইসিসির বোর্ড বৈঠক এবং ৩০ বা ৩১ মে আইপিএলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
- আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে ফাইনাল দেখার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিসিসিআই।
- নকভি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার কারণে এই সফরকে ঘিরে চরম রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে।
- দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের তীব্র টানাপোড়েনের জেরে পিসিবি প্রধানের এই ভারত সফরে আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।