কোচিং থেকে ক্রাইম: NEET পেপার ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড পিভি কুলকার্নির অন্ধকার দুনিয়া

কোচিং থেকে ক্রাইম: NEET পেপার ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড পিভি কুলকার্নির অন্ধকার দুনিয়া

মেডিকেলের প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি ২০২৬’ (NEET-UG 2026) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বড়সড় ঝাঁকুনি দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) এই চক্রের জাল কাটতে নেমে ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে এই মুহূর্তে গোয়েন্দাদের সবচেয়ে বড় আতশিকাচের নিচে রয়েছেন কেমিস্ট্রির অবসরপ্রাপ্ত লেকচারার ড. পিভি কুলকার্নি। মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে গ্রেফতার হওয়া এই অধ্যাপকই গোটা প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র (NTA) পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার সুবাদে কুলকার্নি অতি সহজেই এই অপরাধের নীলনকশা তৈরি করেছিলেন।

যেভাবে ছড়ানো হয়েছিল অপরাধের জাল

তদন্তে জানা গেছে, লাতুরের দয়ানন্দ বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন অধ্যাপক কুলকার্নি চার বছর আগে অবসর নিয়ে পুনেতে চলে আসেন। তিনি ২০১১ সাল থেকে ‘ডিপার’ (DEEPER) নামের একটি মক টেস্ট পরিচালনাকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, কোচিং সেন্টার এবং মক টেস্টের ডেটা ব্যবহার করে পড়াশোনায় কিছুটা দুর্বল শিক্ষার্থীদের টার্গেট করত কুলকার্নির চক্র। এরপর সহযোগী অধ্যাপিকা মনীষা ওয়াঘমারে ও মনীষা মাঁধরে সহ কয়েকজন প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে কাজে লাগিয়ে পুনে, লাতুর সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে সেমিনার করা হতো। সেই সেমিনারের আড়ালেই চলত দুর্বল অথচ বিত্তশালী পরীক্ষার্থীদের সন্ধান এবং তাদের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিয়ে উত্তর মুখস্থ করানোর প্রক্রিয়া।

আর্থিক লেনদেন ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

পরীক্ষার দিনই মনীষা ওয়াঘমারে নামের এক অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। একজন অভিভাবকের অভিযোগের সূত্র ধরেই লাতুর পুলিশের মাধ্যমে সিবিআই এই চক্রের সন্ধান পায়। বর্তমানে সিবিআইয়ের একটি দল লাতুরের আরসিসি (RCC) নামক একটি নামী কোচিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক শিবরাজ মোটেগাওকরসহ একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অন্যদিকে, পুনের নামী মডার্ন কলেজের বায়োলজির সিনিয়র প্রফেসর মনীষা মাঁধরের গ্রেফতারি এই ঘটনার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এনটিএ-র গোপনীয় কাজের সাথে কলেজের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ থাকে না।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সিবিআইয়ের নজর

দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর শিক্ষকতা করা একজন প্রবীণ অধ্যাপকের এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় সংকটে ফেলেছে। সিবিআইয়ের অনুমান, কুলকার্নি কেবল ২০২৬ সালের পরীক্ষাই নয়, এর আগে ২০২৪ সালের নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সাথেও জড়িত থাকতে পারেন। এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলেই যে এই প্রশ্ন বাইরে এসেছে, তা স্পষ্ট। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে নিট পরীক্ষার নিয়মে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে এবং অপরাধের শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা জানতে সিবিআই আরও বড় ধরনের গ্রেফতারির ইঙ্গিত দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কেমিস্ট্রির অবসরপ্রাপ্ত লেকচারার ড. পিভি কুলকার্নিকে পুনে থেকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।
  • এনটিএ-র পরীক্ষা প্রক্রিয়ার অংশ হওয়ার সুযোগ নিয়ে কুলকার্নি কোচিং সেন্টার ও মক টেস্টের ডেটা ব্যবহার করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতেন এবং প্রশ্ন ফাঁস করতেন।
  • পুনে ও লাতুরের বিভিন্ন কোচিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যার সাথে একাধিক অধ্যাপক ও কোচিং ডিরেক্টর যুক্ত।
  • সিবিআই বর্তমানে কুলকার্নির পূর্ববর্তী রেকর্ড খতিয়ে দেখছে এবং ২০২৪ সালের নিট প্রশ্ন ফাঁসেও তার হাত ছিল কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *