মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরেই আরজি করে জোরদার অ্যাকশন, খতম হবে দালালরাজ ও বেআইনি পার্কিং!

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরেই আরজি করে জোরদার অ্যাকশন, খতম হবে দালালরাজ ও বেআইনি পার্কিং!

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রোগী পরিষেবা উন্নত করতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তা ও স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিকাঠামো ও পরিষেবা খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই, শনিবার জরুরি বৈঠকে বসে আরজি কর কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকেই হাসপাতালের সার্বিক বিশৃঙ্খলা রুখতে একঝাঁক কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

দালালচক্র রুখতে কড়া নজরদারি

আরজি করের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দালালচক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ উঠছিল। চিকিৎসা বা অন্যান্য পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অসহায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্র রুখতে এবার কঠোর অবস্থান নিল হাসপাতাল প্রশাসন। শনিবারের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাসপাতালের ভেতরে কোনো দালালের প্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না। এই সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলেই দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করা হবে। উল্লেখ্য, শনিবারই চিকিৎসা করাতে আসা এক রোগীর কাছ থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মানুবর্তিতায় জোর

হাসপাতালের ভেতরে বেআইনি পার্কিং এবং যত্রতত্র কুকুরের উপদ্রব বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে কুকুরের প্রবেশ রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। একই সঙ্গে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টকে আরও চাঙ্গা করতে অফিসারদের সপ্তাহে অন্তত ৪২ ঘণ্টা ডিউটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং ফাঁকিবাজি রুখতে দ্রুত বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর হাসপাতালের এই প্রশাসনিক তৎপরতায় একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা দালালদের হেনস্থা থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনই এর ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মান অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *