শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি উড়িয়েই গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের চেষ্টা!

শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি উড়িয়েই গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের চেষ্টা!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তাক্ত হয়ে উঠল কলকাতার গড়িয়া। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যখন পুলিশ প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই প্রকাশ্য দিবালোকে এক বিজেপি কর্মীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আক্রান্ত যুবকের হাতের চারটি আঙুল বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গড়িয়ার ভ্যালিপার্ক এলাকায়।

প্রকাশ্য দিবালোকে রক্তাক্ত এলাকা

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে গড়িয়ার ভ্যালিপার্ক এলাকায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মী ও অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীর মধ্যে আচমকাই একটি বিষয়ে বচসা শুরু হয়। ঝগড়া চলাকালীনই অভিযুক্ত যুবক হঠাৎ একটি ধারাল ছুরি বের করে ওই বিজেপি কর্মীর উপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। নিজেকে বাঁচাতে গেলে ওই কর্মীর হাতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যার ফলে তাঁর চারটি আঙুল কেটে বাদ যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। এরপরই অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। স্থানীয়রাই গুরুতর জখম যুবককে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক উত্তাপ

এই ঘটনার ঠিক কিছু সময় আগেই ডায়মন্ড হারবার থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে আর কোনো ‘শাসকের শাসন’ চলবে না, বরং ‘আইন ও পুলিশের শাসন’ কায়েম হবে। পুলিশ প্রশাসনকে দলদাসের মতো আচরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার মতো বড় সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেন তিনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই চরম হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার উপকণ্ঠে এই ধরনের নৃশংস হামলা সরাসরি প্রশাসনের দক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ বাহিনী। এই নৃশংস হামলার পিছনে কোনো পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি ভোট পরবর্তী গভীর রাজনৈতিক হিংসা লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রকাশ্য দিবালোকে এই রক্তাক্ত হামলার জেরে এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *