স্বপ্নার বাড়ির আগুনে নতুন মোড়! ‘সবটাই সাজানো?’ বিস্ফোরক দাবি পড়শিদের

স্বপ্নার বাড়ির আগুনে নতুন মোড়! ‘সবটাই সাজানো?’ বিস্ফোরক দাবি পড়শিদের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজগঞ্জ আসনে পরাজয়ের পরই সোনাজয়ী অ্যাথলিট তথা সদ্য রাজনীতিতে আসা তৃণমূল নেত্রী স্বপ্না বর্মনের কালিয়াগঞ্জের পুরনো বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে তীব্র রহস্য দানা বেঁধেছে। শনিবার নিজেই স্কুটার চালিয়ে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ জানাতে আসেন স্বপ্না। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়িতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালেও, অগ্নিকাণ্ডটিকে স্বপ্নার ‘নিজের সাজানো নাটক’ বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁরই নিজের জেঠু এবং পাড়ার প্রতিবেশীরা।

পাঁচ বছর আগে স্বপ্না বর্মন একটি নতুন বাড়ি তৈরি করে সপরিবারে সেখানে চলে যাওয়ার পর থেকে এই পুরনো বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্বপ্নার অভিযোগ, কেউ একজন তাঁর ভাইকে এসে পুরনো বাড়িতে আগুন লাগার খবর দেয়। যদিও সেখানে রান্নার কাঠ এবং কিছু কাগজপত্র ছাড়া আর কিছু ছিল না এবং দমকল আসার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দমকলের দাবি অনুযায়ী, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না। এই ঘটনার পর স্বপ্না আক্ষেপ করে জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাই তাঁর ভুল হয়েছে, না হলে কেউ তাঁর বাড়িতে আগুন দিত না।

পারিবারিক ক্ষোভ ও প্রতিবেশীদের পাল্টা অভিযোগ

ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে স্বপ্নার নিজের পরিবার ও এলাকায়। স্বপ্নার জেঠু সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেছেন যে, অন্যদের ফাঁসাতেই স্বপ্না এমনটা করে থাকতে পারেন। এমনকি ভোটের আগে স্বপ্নাকে ভোট না দিলে হাত ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, প্রতিবেশীদের দাবি, মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে স্বপ্নার দুই ভাই বাড়িতে ঢুকেই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে থাকে এবং তাদের পৌঁছানোর সাথে সাথেই দমকল চলে আসে। স্বপ্নার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রামের ৬ জন যুবকের নামে মামলা করারও অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। ইতিমধ্যেই প্রতিবেশীরা এই ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্না বর্মন জানান, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীরা চাপ দিচ্ছে যাতে তাঁর মা ও দুই দাদা ক্ষমা চান এবং আগের করা সমস্ত এফআইআর তুলে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন যে, বিজেপির গুণ্ডারা স্বপ্নার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা একজন অ্যাথলিটকে কেবল তৃণমূলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হিংসা ও হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

যদিও জেলা পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনাকে ভিন্ন চোখে দেখছে। জেলা পুলিশ সুপার অমরনাথ জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক রং নেই। অগ্নিকাণ্ডটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি কোনো নাশকতা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *