বড় খবর: কল্যাণ, কুণাল, রাজীবদের নিরাপত্তা তুলে নিল লালবাজার!

রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের আবহেই এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল লালবাজার। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং শাসকদলের দাপুটে নেতা কুণাল ঘোষ—এক ধাক্কায় রাজ্যের ১০ জন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বের সরকারি নিরাপত্তা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। আচমকা এই সুরক্ষাবলয় প্রত্যাহারের ঘটনায় বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
লালবাজারের উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের এই তালিকায় শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাই নন, রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট আমলা ও ভোটকুশলীও। রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বর্তমান আইপিএস রাজীব কুমার, প্রাক্তন ডিজিপি মনোজ মালব্য এবং এক সময়ের চাণক্য খ্যাত ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের বাড়তি সরকারি নিরাপত্তাও পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
বদলে যাওয়া নিয়ম ও প্রশাসনিক কারণ
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়া বা পুরনো পদ খোয়ানোর কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁদের পদমর্যাদা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া বিধায়ক বা সাংসদ পদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন নিয়ম ও ক্যাটেগরি পরিবর্তনের জেরেই লালবাজার পুলিশ এই সুরক্ষাবলয় ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য প্রভাব
হঠাৎ করে এতজন শীর্ষস্তরের নেতার নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার ফলে তাঁদের দৈনন্দিন জনসংযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সাথে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে ভিআইপি সংস্কৃতির রাশ টানার একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা বণ্টনের ক্ষেত্রে বড়সড় বদল আনতে পারে।
এক ঝলকে
- কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, অরূপ বিশ্বাস ও কুণাল ঘোষসহ ১০ হেভিওয়েটের সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল লালবাজার।
- তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার, প্রাক্তন ডিজিপি মনোজ মালব্য এবং ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরও।
- মন্ত্রিত্ব ও পুরনো পদ চলে যাওয়া এবং ক্যাটেগরি পরিবর্তনের নতুন নিয়মের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- সুরক্ষাবলয় প্রত্যাহারের ফলে ভিআইপি সংস্কৃতি হ্রাস এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা বণ্টনে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা।