‘আমি ফেঁসে গেছি রে…’, বন্ধুকে শেষ মেসেজ! পরদিনই শ্বশুরবাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর রহস্যমৃত্যু

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ৩১ বছর বয়সি অন্তঃসত্ত্বা তরুণী তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন বন্ধু মীনাক্ষীকে পাঠানো তিশার শেষ মোবাইল বার্তা, ‘আমি ফেঁসে গিয়েছি রে…’, এখন এই মৃত্যুরহস্যের প্রধান সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১২ মে কাটারা হিলসের শ্বশুরবাড়ি থেকে তিশার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই ঘটনার মোড় ঘুরতে শুরু করে। এই ঘটনাকে সাধারণ আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ তরুণীর পরিবার, বরং একে পরিকল্পিত খুন বলেই দাবি করছেন তাঁরা।
প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত ঘোরানোর অভিযোগ
নয়ডার বাসিন্দা তিশা ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ভোপালের আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের প্রেমে পড়েন এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিশার ওপর লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল এবং বাপের বাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের পণ চাওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিশার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মেলায় পরিবারের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে তিশার শাশুড়ি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক হওয়ায়, তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে পুলিশি তদন্তের অভিমুখ ঘোরানোর চেষ্টা করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
দিল্লি এইমসে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তিশার পরিবার। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, স্থানীয় স্তরে হওয়া প্রথম ময়নাতদন্তে চরম গাফিলতি ছিল, তাই দিল্লির এইমসে (AIIMS) তিশার দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে বিশেষ তদন্ত এবং তিশার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিতে অনড় পরিবারটি সাফ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা না যাওয়া পর্যন্ত তরুণীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে না। বর্তমানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ঘটনার তদন্ত করছে এবং অভিযুক্ত স্বামীর আগাম জামিনের শুনানি চলছে।
এক ঝলকে
- ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে ৩১ বছর বয়সি অন্তঃসত্ত্বা তিশা শর্মার রহস্যজনক দেহ উদ্ধার।
- মৃত্যুর আগের দিন বন্ধুকে ‘ফেঁসে গেছি’ বলে শেষ বার্তা পাঠিয়েছিলেন ওই তরুণী।
- স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণ চেয়ে লাগাতার নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ পরিবারের।
- সুষ্ঠু বিচার ও দিল্লি এইমসে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে পরিবারের বিক্ষোভ।