২০ ঘণ্টায় গড়গড়িয়ে সংস্কৃত! ২০০০ স্বেচ্ছাসেবকের প্রশিক্ষণে রাজ্যে ‘দেবভাষা’র জোয়ার

২০ ঘণ্টায় গড়গড়িয়ে সংস্কৃত! ২০০০ স্বেচ্ছাসেবকের প্রশিক্ষণে রাজ্যে ‘দেবভাষা’র জোয়ার

২০ ঘণ্টায় সাবলীল দেবভাষা! পদ্ম শিবিরের বিধায়কদের শপথপাঠে বাংলায় হু হু করে বাড়ছে সংস্কৃত শেখার ঝোঁক

রাজ্যে ‘দেবভাষা’ সংস্কৃতকে আমজনতার কথ্য ভাষায় রূপান্তর করতে এক অভিনব আন্দোলন শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সহযোগী সংগঠন ‘সংস্কৃত ভারতী’। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে টানা ১০ দিন, অর্থাৎ মাত্র ২০ ঘণ্টার বিশেষ প্রশিক্ষণে সাধারণ মানুষকে সংস্কৃতে কথা বলা শেখানো হচ্ছে। ১৯৮১ সালে বেঙ্গালুরুতে শুরু হওয়া এই ভাষা আন্দোলন ২০০৮ সালে বাম আমলে পশ্চিমবঙ্গে পা রাখলেও, সাম্প্রতিককালে তা এক নজিরবিহীন গতি পেয়েছে। মূলত রাজ্য বিধানসভায় বিজেপির ১৬ জন বিধায়ক সংস্কৃতে শপথ নেওয়ার পর থেকেই আমজনতার মধ্যে এই ভাষা শেখার আগ্রহ এক ধাক্কায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শপথপাঠের প্রভাব ও গণজোয়ার

হিরণ চট্টোপাধ্যায়, চন্দনা বাউড়ি, লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের মতো পদ্ম শিবিরের বিধায়কদের সংস্কৃতে শপথ গ্রহণ জনমানসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। সংস্কৃত ভারতীর দক্ষিণবঙ্গের সম্পর্ক প্রমুখ অরুণ চক্রবর্তীর দাবি, এই ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তাঁদের ‘দশদিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির’-এ অংশ নিয়েছেন। সম্পূর্ণ নিখরচায় আয়োজিত এই শিবিরে কোনো খাতা, পেন বা বইয়ের প্রয়োজন হয় না, কেবল প্রশিক্ষকদের বিশেষ পদ্ধতিতে মুখের ভাষায় সংস্কৃত রপ্ত করানো হয়। সঙ্ঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষও বর্তমানে আগ্রহ নিয়ে সংস্কৃত শিখছেন। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ছাড়িয়ে আরব আমিরশাহি, কাতার ও কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতেও এই ভাষা শিক্ষার পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে।

মূল গ্রন্থের স্বাদ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

চিকিৎসা ও সনাতন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাষা আন্দোলনের গভীর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, সংস্কৃত ভাষা জানা থাকলে বেদ, উপনিষদ ও পুরাণের পাশাপাশি আয়ুর্বেদের মূল আকর গ্রন্থ যেমন চরক বা সুশ্রুত সংহিতা সরাসরি পড়া ও বোঝা সম্ভব। ফলে অনুবাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমে এবং মূল জ্ঞানার্জন সহজ হয়। একদিকে ভারতীয় সংস্কৃতিকে জাগ্রত করা এবং অন্যদিকে প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে সহজবোধ্য করে তোলার লক্ষ্যেই দেশজুড়ে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।

এক ঝলকে

  • প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে টানা ১০ দিনের (মোট ২০ ঘণ্টা) অবৈতনিক শিবিরে সংস্কৃতে কথা বলা শেখাচ্ছে ‘সংস্কৃত ভারতী’।
  • বিধানসভায় বিজেপির ১৬ জন বিধায়ক সংস্কৃতে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যে এই ভাষা শিক্ষার প্রতি গণআগ্রহ তৈরি হয়েছে।
  • কোনো ধর্ম বা রাজনীতির গণ্ডি না রেখে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এবং আরবের বিভিন্ন দেশেও এই ভাষা জনপ্রিয় হচ্ছে।
  • এই উদ্যোগের ফলে অনুবাদ ছাড়াই আয়ুর্বেদ, বেদ ও উপনিষদের মূল সূত্রগুলি সরাসরি বোঝার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *