সাত দিনের মধ্যে এফআইআর না হলে মামলার হুঁশিয়ারি, পুর-দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক অর্জুন সিং

গারুলিয়া পুরসভা থেকে মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত—একদিনে পরপর দুই প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপোষণের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। সোমবার সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দুর্নীতিতে যারা যুক্ত, তাদের জেল হতেই হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে এফআইআর দায়ের করা না হলে খোদ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত অচল হয়ে থাকা গারুলিয়া পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিনা কাজে বেতন ও স্বজনপোষণের অভিযোগ
গারুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান, ইও, ফিনান্স অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর অর্জুন সিং দাবি করেন, এই পুরসভায় প্রায় ১০০ জন কর্মী কোনো কাজ না করেই নিয়মিত বেতন নিচ্ছেন। এমনকি একাধিক কাউন্সিলরের পরিবারের সদস্যদের নামেও কাজ না করে সরকারি তহবিল থেকে টাকা তোলার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, কাজ না করে যারা টাকা নিয়েছেন, তাদের সেই অর্থ ফেরত দিতেই হবে। এর পাশাপাশি একাংশ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরাসরি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কোথাও কাউন্সিলর নিজে, আবার কোথাও তাঁর স্ত্রী বা সন্তান ঠিকাদারি করছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এই ধরনের অনৈতিক আর্থিক লিকেজ দ্রুত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
পরিবেশ ধ্বংস ও ওবিসি সার্টিফিকেট বিতর্ক
গারুলিয়া পুরসভার পাশাপাশি মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পরিদর্শনে গিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক। সেখানে হাই ড্রেনের মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়া এবং খাল বুজিয়ে জলনিকাশি ব্যবস্থা ধ্বংস করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তিনি। এর ফলে মোহনপুর ও ব্যারাকপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃত্রিম জলজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে মোহনপুর পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ওবিসি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে পদ দখলের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান অর্জুন সিং।
প্রশাসনিক অচলবস্থা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে এই স্থবিরতা ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় পরিষেবা পুরোপুরি ব্যাহত করছে। বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের নামে করদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং পুকুর ভরাট ও অবৈধ নির্মাণের মতো ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে। অর্জুন সিং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই চুরির তদন্তে তাঁর দলের কেউ যুক্ত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না। এই কড়া অবস্থানের ফলে আগামী দিনগুলিতে ব্যারাকপুর ও উত্তর ব্যারাকপুর পুর এলাকায় জঞ্জাল সমস্যা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল এবং আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।