‘গরুর কুঁজে হাত বোলালে কমে ব্লাড প্রেশার, গোবরেও রোগ নিরাময়!’ ‘দুধে সোনা’র পর এবার গোমাতা নিয়ে অভিনব দাবি মন্ত্রী দিলীপের

‘গরুর কুঁজে হাত বোলালে কমে ব্লাড প্রেশার, গোবরেও রোগ নিরাময়!’ ‘দুধে সোনা’র পর এবার গোমাতা নিয়ে অভিনব দাবি মন্ত্রী দিলীপের

‘গরুর দুধে সোনা থাকে’ কিংবা ‘দেশি গরু আমাদের মা, আর জার্সি গরু মাসিমা’— গোমাতা নিয়ে অতীতে করা নিজের একাধিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে তুমুল বিতর্ক ও হাসাহাসি হলেও নিজের অবস্থানে যে তিনি একচুলও অনড় নন, তা আবারও প্রমাণ করলেন দিলীপ ঘোষ। এবার রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত, প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি বিপণন মন্ত্রী দাবি করলেন, মানুষের শরীরের উচ্চ রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও গরুর জুড়ি মেলা ভার। গরুকে ভালোবেসে আদর করলে কিংবা তার গায়ে হাত বোলালে নাকি দ্রুত হাই ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক হয়ে যায়!

কাঁকুড়গাছির চা-চক্রে মন্ত্রীর নয়া ‘গো-তত্ত্ব’

মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকায় একটি দলীয় প্রাতভ্রমণ ও ‘চা-চক্র’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। যেহেতু তিনি এখন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দফতরেরও মন্ত্রী, তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের দুগ্ধ শিল্প ও গবাদি পশুর প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেখানে গরুর বহুমুখী উপকারিতার কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন:

“গরুকে আদর করলে মানুষের ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দেশি গরুর গলার নিচের ঝুলন্ত চামড়া (গলকম্বল) বা পিঠের ওপর যে কুঁজ থাকে, সেখানে নিয়মিত পরম যত্নে হাত বোলালে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ দ্রুত নেমে আসে এবং শরীর সুস্থ থাকে।”

উল্লেখ্য, বছর কয়েক আগে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরও হুবহু একই দাবি করে বলেছিলেন যে, গরুর পিঠ থেকে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে মালিশ করলে রক্তচাপ সারে।

রোগ নিরাময়ে গোবরের কার্যকারিতা ও আত্মীয়ের উদাহরণ

এদিন শুধু রক্তচাপ নয়, গোবরের ওষধি গুণ নিয়েও সওয়াল করেন নতুন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। প্রাচীন আয়ুর্বেদের দোহাই দিয়ে তিনি দাবি করেন, গোবরের মধ্যে মারাত্মক রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা লুকিয়ে রয়েছে। নিজের এক আত্মীয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার নিজের এক আত্মীয়ের শরীরের একটা অংশ হঠাৎ ভীষণ ফুলে গিয়েছিল। অনেক ওষুধেও কাজ হচ্ছিল না। কিন্তু সেই ফোলা অংশে নিয়ম করে দেশি গরুর টাটকা গোবর লাগানোর পর অলৌকিক উপায়ে সেই রোগ ও ফোলা ভাব সম্পূর্ণ কমে গিয়েছিল।”

অতীতের ‘স্বর্ণনাড়ি’ ও গোমূত্র বিতর্ক নিয়ে অনড় দিলীপ

২০১৯ সালে বর্ধমানের এক জনসভা থেকে দিলীপ ঘোষ প্রথম দাবি করেছিলেন যে, দেশি গরুর কুঁজের ভেতর ‘স্বর্ণনাড়ি’ থাকে, যা সূর্যের আলো থেকে সোনা তৈরি করে। সেই কারণেই গরুর দুধের রঙ কিছুটা হলদেটে বা সোনার আভা যুক্ত হয়। এরপর করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গোমূত্র পানের নিদান দিয়েও রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করেছিলেন তিনি।

এদিন সেই সমস্ত পুরোনো বিতর্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই পাল্টা খোঁচা দেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমি গরুর বিজ্ঞানসম্মত উপকারিতার কথা বললেই সমাজবাদী আর কিছু বুদ্ধিজীবীর অস্বস্তিবোধ শুরু হয়। আসলে গাধারা কখনও গরুর আসল মর্ম ও মূল্য বুঝতে পারবে না।”

দুগ্ধ শিল্প নিয়ে গোশালা মালিকদের সঙ্গে মেগা বৈঠক

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাটাল ও গোশালাগুলির আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যের সমস্ত বড় দুগ্ধ ব্যবসায়ী, গোশালার মালিক এবং ডেয়ারি ডেভলপমেন্টের আধিকারিকদের নিয়ে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন তিনি। তবে সেই অফিশিয়াল বৈঠকের আগেই উত্তর কলকাতার চা-চক্র থেকে মন্ত্রীর এই নয়া ‘গো-চিকিৎসা’র তত্ত্ব সমাজমাধ্যমে নতুন করে চর্চা ও ট্রোলের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *