চিপকে ‘বিদায়ী’ ফটোশুটে আবেগঘন ধোনি, তবে কি এবার সত্যিই ইতি থালার রূপকথায়

চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) চেন্নাই সুপার কিংসের অন্দরমহল থেকে শুরু করে ক্রিকেট দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন, মহেন্দ্র সিং ধোনি কি তবে সত্যিই বুট জোড়া তুলে রাখছেন? সোমবার ঘরের মাঠ চিপকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ের পরাজয়ের পর মাঠের এক আবেগঘন দৃশ্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। সানরাইজার্সের কাছে হেরে চলতি মরশুমে চেন্নাইয়ের প্লে-অফের আশা কার্যত শেষ। আর এই আবহেই ঘরের মাঠে নিজেদের শেষ ম্যাচের পর দলের সকলের সঙ্গে ফটোশুটে মেতে ওঠেন ‘থালা’। চলতি আইপিএলে চোটের কারণে একটি ম্যাচও না খেলা ধোনিকে এভাবে ফ্রেমবন্দি হতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি চিপকের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার অনুরাগী।
চিপকে কান্নার রোল ও ফ্লেমিংয়ের ধোঁয়াশা
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে নেমে এসে সতীর্থদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান ধোনি। মাঠে উপস্থিত প্রাক্তন সতীর্থ তথা দীর্ঘদিনের বন্ধু সুরেশ রায়নাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। রায়না নিজেও ধোনিকে আগামী মরশুমে খেলার জন্য অনুরোধ জানান। ঘরের মাঠে মরশুমের শেষ ম্যাচে সাধারণত দলগুলি ফটোশুট করে থাকলেও, এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইপিএল শুরুর আগেই প্রস্তুতি শিবিরে কাফ মাসলে চোট পেয়েছিলেন ধোনি। এরপর রিহ্যাব করে ফিট হওয়ার চেষ্টা করলেও বারবার পুরনো চোটের পুনরাবৃত্তি তাঁর খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে চলতি মরশুমে একটি ম্যাচেও হলুদ জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি তাঁর।
ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে চেন্নাইয়ের হেড কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের মন্তব্য ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী মরশুমে ধোনির খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফ্লেমিং সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে জানান, এটি সম্পূর্ণ ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। তবে ধোনি মাঠে না নামলেও দলের তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিকতা তৈরিতে এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ চাঙ্গা রাখতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন কোচ।
ভবিষ্যতের ওপর চোটের কালো মেঘ
লিগ পর্বে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। সেই ম্যাচেও ধোনির মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার চোটের আঘাত এবং বয়স— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ৪৪ বছর বয়সী প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের পক্ষে পেশাদার ক্রিকেটে ফেরা এবার সত্যিই কঠিন। যদি গুজরাট ম্যাচের পর ধোনি বা চেন্নাই ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না-ও আসে, তবুও চিপকের এই বিদায়ী ফটোশুটকে ক্রিকেটপ্রেমীরা ‘থালা’র বর্ণময় আইপিএল কেরিয়ারের অলিখিত সমাপ্তি হিসেবেই দেখছেন।