ভোটের আগেই মাথা নোয়ালেন পুষ্পা, ফলতায় সরে দাঁড়িয়ে রাজনীতি ছাড়ছেন জাহাঙ্গির

আগামী ২১ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। আজ মঙ্গলবারই ছিল প্রচারের শেষ দিন। কিন্তু প্রচারের শেষ লগ্নে এসে সবাইকে চমকে দিয়ে ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। শুধু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোই নয়, একই সঙ্গে সক্রিয় রাজনীতি থেকেও চিরতরে সন্ন্যাস নেওয়ার বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই বিতর্কিত নেতা।
উন্নয়ন ও শান্তির স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর দাবি
হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে জাহাঙ্গির খানের দাবি, এই সিদ্ধান্ত তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় নিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তি রক্ষা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতা অঞ্চলের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। জাহাঙ্গির চান ফলতায় উন্নয়ন হোক, এলাকাটি ‘সোনার ফলতা’ হিসেবে গড়ে উঠুক। আর সেই কারণেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন।
‘সিংঘম’ বনাম ‘পুষ্পা’ দ্বন্দ্বের পটভূমি
গত ২৯ এপ্রিল ফলতা কেন্দ্রে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেই সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট তথা ‘সিংঘম’ খ্যাত আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, ভোটের আগে জাহাঙ্গির খানের পাড়ায় গিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তার জবাবে জাহাঙ্গির খান নিজেকে ‘পুষ্পা’ চলচ্চিত্রের চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে গর্জে উঠেছিলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিলেন, দিল্লির কোনো শক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না এবং ‘পুষ্পা ঝুঁকবে না’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
পুনর্নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণ
গত ২৯ এপ্রিলের ভোটের দিন ফলতার একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে। বিভিন্ন রিপোর্ট ও প্রশাসনিক তথ্য খতিয়ে দেখে কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ২১ মে-র এই পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন বিপুল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল, যার জন্য ৩৫ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথা ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং প্রশাসনিক চাপের কারণেই হয়তো জাহাঙ্গির খান শেষ মুহূর্তে পিছু হটেছেন। ভোটের ঠিক মুখে শাসকদলের প্রার্থীর এভাবে রণে ভঙ্গ দেওয়া এবং রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণার ফলে ফলতা কেন্দ্রে কার্যত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথ বা ‘ওয়াক ওভার’ পেয়ে গেল প্রধান বিরোধী দল বিজেপি।