দশ বছর পর নন্দনে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, টলিপাড়ায় এবার অবসান ঘটছে অঘোষিত ব্যান কালচারের

দশ বছর পর নন্দনে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, টলিপাড়ায় এবার অবসান ঘটছে অঘোষিত ব্যান কালচারের

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাত ধরে এবার টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও বড়সড় বদলের হাওয়া লেগেছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে অঘোষিত ‘ব্যান’ কালচারের শিকার হওয়া এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোণঠাসা হয়ে থাকার পর, অবশেষে টলিপাড়ার খোলনলচে বদলে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিউডের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের দায়িত্বভার রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের উপর সঁপে দিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অরূপ এবং স্বরূপ বিশ্বাসের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটল বলেই মনে করছে সিনেমা মহল।

এক দশকের বঞ্চনা ও টলিপাড়ার চেনা ছবি

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কার্যত একঘরে হয়ে থাকার পর ক্ষমতা বদলের সাথে সাথেই একরাশ ক্ষোভ ও আবেগ উগড়ে দিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি সমর্পণ সেনগুপ্ত পরিচালিত ‘প্রত্যাবর্তন’ ছবির প্রদর্শনীর জন্য দীর্ঘ ১০ বছর পর নন্দনে পা রাখেন তিনি। অতীতের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও ইন্ডাস্ট্রিতে একটা চোরাগোপ্তা ভয় কাজ করত। প্রযোজক ও পরিচালকদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, বিজেপি ঘনিষ্ঠ তারকাদের নিলে ছবি রিলিজ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছরের চেনা মানুষ, পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পপতি থেকে শুরু করে আইএএস বা আইপিএস অফিসাররাও জনসমক্ষে তাঁদের সাথে কথা বলতে ভয় পেতেন। দূর থেকে ইশারায় সৌজন্য বিনিময় করলেও, ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে এড়িয়ে চলতেন।

মুক্তির আলো ও আগামীর সম্ভাবনা

ইন্ডাস্ট্রিতে ফেডারেশনের দাদাগিরি এবং স্বৈরাচারী মনোভাব বন্ধ করে শিল্পী ও কলাকুশলীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করাই এখন নতুন কমিটির প্রধান লক্ষ্য। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বৈষম্যমূলক ও দমবন্ধ করা পরিবেশের এবার অবসান ঘটতে চলেছে। যদিও সমস্ত পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশানুসারেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় কেবল চারজন নয়, টলিউডের সমস্ত স্তরের মানুষকে একজোট করে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক পালাবদলের এই প্রভাবে টলিউডের বিভিন্ন সংগঠনেও আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে, যা আগামী দিনে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের সামগ্রিক পরিকাঠামো এবং মুক্ত কাজের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *