সীমান্তে বড় বদলের ইঙ্গিত? প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন অফিসাররা

কোচবিহারের দিনহাটা আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ। উত্তরবঙ্গের চলমান বর্ষা ও বিষধর সাপের উপদ্রবকে উপেক্ষা করেই দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এক হাঁটু জলকাদায় নেমে কাজ করছেন রাজ্য সরকারের রাজস্ব পরিদর্শক ও ভূমি সমীক্ষকরা। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ১৮ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই ডেডলাইন বজায় রাখতেই এখন ছুটির দিন বাদ দিয়ে দিনরাত কাজ চলছে মাঠে ও অফিসে।
ঝুঁকি নিয়ে চলছে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি
দিনহাটার সাহেবগঞ্জ, দিঘলতারি এবং গরলঝোড়া এলাকার বিস্তীর্ণ সীমান্ত অঞ্চল এতদিন কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ছিল। এই ভৌগোলিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক সীমান্তের এই ফাঁকগুলি চিরতরে বন্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে একটি দল প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাপের কামড়ের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ধানজমিতে নেমে দাগ ও খতিয়ান অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দলটি ব্যাক-এন্ডে ‘বাংলারভূমি’ পোর্টালের তথ্যের সাথে বর্তমান মালিকানা ও জমির রেকর্ড যাচাইয়ের কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করছে।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দিনহাটার মহকুমা শাসক (এসডিও) ভরত সিং জানিয়েছেন, জমি হস্তান্তরের এই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ হওয়া মাত্রই জমির মালিকদের তালিকা জেলাশাসকের দপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর রাজ্য সরকার সরাসরি মালিকদের থেকে জমি কিনে তা বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করবে। আবহাওয়া আরও খারাপ না হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের সমীক্ষা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ১৮ একর জমিতে কাঁটাতারের বেড়া বসে গেলে সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত হবে, যা দীর্ঘদিনের অনুপ্রবেশ সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর প্রভাব ফেলবে।