পুষ্পা না অভিষেক, শেষ মুহূর্তে ডায়মন্ড হারবার মডেলে ফাটল ধরিয়ে আসলে ঝুঁকলেন কে!

পুষ্পা না অভিষেক, শেষ মুহূর্তে ডায়মন্ড হারবার মডেলে ফাটল ধরিয়ে আসলে ঝুঁকলেন কে!

ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নাটকীয় মোড় উত্তর চব্বিশ পরগনার ফলতার রাজনীতিতে। নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান হঠাৎ করেই ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন। তবে এই ঘোষণার পর বাংলার রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আসলে ঝুঁকলেন কে? জাহাঙ্গীর খান নাকি তাঁর রাজনৈতিক অভিভাবক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? এক দশক আগে নারদ কাণ্ডের পর সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এই ঘটনাটি ডায়মন্ড হারবার মডেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।

নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন

ডায়মন্ড হারবার ও ফলতার স্থানীয় রাজনীতিতে জাহাঙ্গীর খান পরিচিত ছিলেন ‘ম্যান অফ অভিষেক’ হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে যে ডায়মন্ড হারবার মডেলকে বিরোধী-শূন্য এবং রেকর্ড মার্জিনে জয়ের মিথ হিসেবে তুলে ধরা হতো, জাহাঙ্গীররা ছিলেন সেই ব্যবস্থারই অন্যতম স্তম্ভ। তবে এবার ফলতার ভোটের শেষলগ্নে এক নজিরবিহীন দূরত্ব তৈরি হতে দেখা যায়। লোকসভা ভোটের মূল পর্বে ডায়মন্ড হারবারে প্রচার করলেও, ফলতার ভোট পিছিয়ে যাওয়ার পর সেখানে আর পা রাখেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দূরত্বের কারণেই মূলত আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরেছে জাহাঙ্গীরের। স্থানীয় বিরোধী শিবিরের কটাক্ষ, নেতার ছায়া ও পুলিশের প্রচ্ছন্ন মদত না পেয়েই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে ‘পুষ্পা’ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন। সেনাপতির এই আচমকা প্রস্থানে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি।

ইভিএমে নাম থাকার আইনি কারণ ও ভোট বাক্সে প্রভাব

জাহাঙ্গীর খান ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেও, নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপার বা ইভিএম থেকে তাঁর নাম বাদ যাচ্ছে না। ভারতীয় নির্বাচনী আইন (Representation of the People Act) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনির পর তা প্রত্যাহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সেই সময় পার হয়ে যাওয়ার পর আইনিভাবে আর নাম প্রত্যাহার সম্ভব নয়। ফলতায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় বহু আগেই পেরিয়ে যাওয়ায় এবং ইভিএম প্যানেল চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় ভোটের দিন জাহাঙ্গীরের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক যথাস্থানেই থাকবে।

আইনিভাবে নাম থেকে গেলেও, প্রার্থীর এই প্রকাশ্য মাঠ ছাড়ার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে চলেছে। ভোটের ঠিক দু’দিন আগে খোদ শাসকদলের প্রার্থীর এমন ‘ওয়াকওভার’ স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। যে ডায়মন্ড হারবার মডেলে এতদিন বিরোধীদের কোণঠাসা করার রেওয়াজ ছিল, সেখানে খোদ অভিষেকের ঘনিষ্ঠ প্রার্থীর এই পিছুটান ফলতার ভোট বাক্সে তৃণমূলের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *