“বিজয়ের সরকার পড়ে যেতে পারে যে কোনও মুহূর্তে! কর্মীদের গোপন বার্তা স্ট্যালিনের”

“বিজয়ের সরকার পড়ে যেতে পারে যে কোনও মুহূর্তে! কর্মীদের গোপন বার্তা স্ট্যালিনের”

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চরম অনৈশ্চয়তা তৈরি করে যেকোনো দিন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সরকারের পতন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে সুপ্রিমো এমকে স্ট্যালিন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন এড়ানো আসাম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো মুহূর্তে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

টলোমলো বিজয়ের সরকার, নেপথ্যে একাধিক সমীকরণ

স্ট্যালিনের মতে, বিজয়ের বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগের মতো সহযোগী দলগুলো যেকোনো মুহূর্তে বিজয়ের সরকারের ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিতে পারে। পাশাপাশি, বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পরীক্ষায় বিজয়কে সমর্থন জানানো প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র ২৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সদস্যপদও আদালতের নির্দেশে খারিজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই ঘটনার জেরে সরকার ক্ষমতা হারাতে পারে।

ডিএমকে ও এআইএডিএমকে মেরুকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব

বিজয়কে ক্ষমতাচ্যুত করতে তামিল রাজনীতির দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চলেছিল। এআইএডিএমকে-র সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীকে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য দু’দলের একাংশ উদ্যোগী হলেও শেষ পর্যন্ত সেই বোঝাপড়া ফলপ্রসূ হয়নি। উল্টে দলীয় ক্ষোভের মুখে পড়ে পালানিস্বামী এখন বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে আপস করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এমকে স্ট্যালিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারের পতন হলে ডিএমকে অন্য কোনো দলের সমর্থনে সরকার গড়ার চেষ্টা করবে না এবং কাউকে সমর্থনও দেবে না। ডিএমকে সরাসরি জনগণের দরবারে যেতে চায় এবং অন্তর্বর্তী নির্বাচন হলে তারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবে বলে আশাবাদী। এই রাজনৈতিক দড়িটানাটানির ফলে তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *