১ লাখ ৬২ হাজারের লিড থেকে পোলিং এজেন্টহীন ফলতা, অন্তরালে কোন রাজনৈতিক সমীকরণ

গত লোকসভা নির্বাচনে যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ১ লক্ষ ৬২ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে লিড পেয়েছিলেন, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ধরা পড়ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ২৯ এপ্রিলের ভোটেও যেখানে ইভিএমে টেপ লাগিয়ে রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল শাসকদলের বিরুদ্ধে, সেখানে আজ পুনর্নির্বাচনের প্রাক্কালে পোলিং এজেন্ট বসাতেও হিমশিম খাচ্ছে ঘাসফুল শিবির। এই আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্বকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তৃণমূলের প্রচারবিমুখতা ও দলীয় কোন্দল
ফলতায় পুনর্নির্বাচনের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীর সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন। বিপরীতে, তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচার ময়দানে নামতেই দেখা যায়নি স্থানীয় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দলের হেভিওয়েট নেতার এই অনুপস্থিতি স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল মারাত্মকভাবে ভেঙে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, দলের স্থানীয় সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বুথ স্তরে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার মতো নূন্যতম কর্মীও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই সাংগঠনিক শূন্যতাই মূলত বিরোধী শিবিরকে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ভোটের মাঠে সম্ভাব্য প্রভাব
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ফলতার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আগামী দিনে ওই এলাকার নির্বাচনী ফলাফলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। শাসকদলের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং জনসংযোগের অভাবের ফলে দলের ভোটব্যাংক ব্যাপকভাবে হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির হেভিওয়েট প্রচারের কারণে সাধারণ ভোটার ও ভাসমান ভোট বিরোধী শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে, যা ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।