আরজি করের সেমিনার হল ছাড়া আর কোন কোন এলাকা সিল করা প্রয়োজন, সিবিআইকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ হাই কোর্টের
আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় এল কলকাতা হাই কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে। হাসপাতালের বিতর্কিত সেমিনার হলের পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে আরও যে যে জায়গা সিল করা প্রয়োজন, তা অবিলম্বে সিল করার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২০২৪ সালের সেই নৃশংস ঘটনার দুই বছর পর, তদন্তের প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রমাণ সুরক্ষার বিষয়টি আবারও আইনি কাঠগড়ায় উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আরজি করের ওই ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন প্রয়োজনীয় এলাকাগুলো সুরক্ষিত রাখতে হবে। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে এবং তার আগেই সিবিআইকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের খাতিরেই কি সন্দীপ ঘোষের অফিস সিল করার ভাবনা
আদালতে শুনানি চলাকালীন সিবিআই জানায় যে, হাসপাতালের মূল সেমিনার হলটি বর্তমানে সিল করা রয়েছে। তবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই ভবনের সপ্তম তলায় আরজি করের তৎকালীন বিতর্কিত অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের যে অফিসটি ছিল, তা এখনও খোলা রয়েছে। পরিবারের এই দাবির পরেই আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতিরা জানতে চান, তদন্তের স্বার্থে অন্য কোনও জায়গা সিল করার প্রয়োজন রয়েছে বলে কেন মনে করেনি সিবিআই?
এর আগে মামলাটি একে একে তিনটি ভিন্ন বেঞ্চ ঘুরে বর্তমান ডিভিশন বেঞ্চে এসেছে। গত ১২ মে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ মামলাটি ছেড়ে দেওয়ার পর, প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশে এটি নতুন বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয়। নির্যাতিতার পরিবারের মূল দাবি ছিল, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সমস্ত তথ্যপ্রমাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা ও তদন্তের ভবিষ্যৎ প্রভাব
আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই কড়া অবস্থানের পেছনে রয়েছে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা। যদিও এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত, তবুও সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকড়ে পৌঁছাতে নির্যাতিতার পরিবার নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তৎকালীন অধ্যক্ষের দপ্তর বা আশেপাশের এলাকা খোলা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে সিবিআই এখন হাসপাতালের আরও কিছু অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বাধ্য হবে, যা এই স্পর্শকাতর মামলার বাকি তদন্তে নতুন গতি বা সূত্র এনে দিতে পারে।