ভোটের মুখে ফলতায় ‘পুষ্পা’র রণে ভঙ্গ, শুভেন্দুর চাঁচাছোলা তোপে ব্যাকফুটে ঘাসফুল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনা। ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আকস্মিকভাবেই নির্বাচনী লড়াই থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা ডায়মন্ড হারবারের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান। নিজেকে ফিল্মি কায়দায় ‘পুষ্পা’ চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে কিছুদিন আগেই যিনি ‘ঝুঁকেগা নেহি’ সংলাপ আওড়েছিলেন, তাঁর এই আকস্মিক পলায়ন ঘিরে তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি। এই চরম আবহের মাঝেই ফলতার মেগা নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে তৃণমূল প্রার্থী ও নেতৃত্বকে তীব্র উপহাস ও আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর চাঁচাছোলা আক্রমণ ও ‘ভাইপো’ তত্ত্ব
তৃণমূল প্রার্থীর এই সরে দাঁড়ানোকে ‘ত্যাগ’ হিসেবে মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতার জনসভা থেকে স্বভাবসিদ্ধ কায়দায় খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, নিজেকে সরিয়ে নিয়ে জাহাঙ্গির খান কোনো বড় কাজ করেননি, কারণ ২১ মে ফলতার সাধারণ মানুষই তাঁকে ভোটবাক্সে সরিয়ে দিত। এমনকি বুথে বসার মতো পোলিং এজেন্ট খুঁজে না পাওয়ার ভয়েই তৃণমূল রণে ভঙ্গ দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ‘ভাইপো’ তথা শীর্ষ নেতৃত্বের উস্কানিতে জাহাঙ্গির বড় বড় কথা বললেও বিপদের দিনে তাঁর কোনো দেখা মেলেনি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করেন, বুক ঠুকে ‘ঝুঁকেগা নেহি’ বলা নেতা এখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সটান পগার পার। একই সাথে তৃণমূলের নতুন রণকৌশল নিয়ে ভোটারদের সতর্ক করে তিনি জানান, প্রার্থী নেই অজুহাতে ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা হতে পারে, তবে ১০ বছর পর পাওয়া নিজের ভোট দেওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে সকলকে বুথে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইনি বাধ্যবাধকতা বনাম সম্প্রীতির যুক্তি
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাঙ্গির খানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি কৌশল। এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো ও কারচুপির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছিল। গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সম্প্রতি তিনি আইনি রক্ষাকবচ পান। আইনি স্বস্তি মেলার পরপরই তাঁর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত রহস্যময় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে জাহাঙ্গির খানের দাবি, ফলতার সামগ্রিক উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা এবং এলাকায় রক্তপাতহীন রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতেই তিনি এই বড় ‘ত্যাগ’ স্বীকার করেছেন।
ভোটের সমীকরণে সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের ঠিক দু’দিন আগে প্রার্থীর এই পিছু হঠার ঘটনা ফলতার নির্বাচনী সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে প্রার্থীর ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ বলে দূরত্ব বজায় রাখা হলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে এটি শাসক শিবিরের জন্য এক বড় ধাক্কা। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলি যেমন বাড়তি অক্সিজেন পাচ্ছে, তেমনই সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে এই নাটকীয় মোড় ফলতার সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, তা ২১ মে ব্যালট বাক্সেই স্পষ্ট হবে।