অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিশ, তীব্র চাঞ্চল্য ও মেয়রের কৌশলী জবাব

অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিশ, তীব্র চাঞ্চল্য ও মেয়রের কৌশলী জবাব

সোমবারের হাইভোল্টেজ ‘কালীঘাট ক্লাসের’ রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা পুরসভায় নতুন শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (কেএমসি)। হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে পুরসভার ৪০১ ধারায় এই নোটিশ ঝোলানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে তিনি কেবল একজন নীতি নির্ধারক বা ‘পলিসি মেকার’ এবং এই নোটিশ সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই।

আমি শুধু পলিসি মেকার

খোদ অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ার মূল কারণ, সোমবারই কালীঘাটে ডেকে মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেয়র বলেন, কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের নিয়মে তাঁরা হলেন পলিসি মেকার। এই বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই এবং এসব জিনিস সম্পূর্ণ বরো অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের আওতায় আসে। দলের শীর্ষ নেতার বাড়িতে পুরসভার নোটিশ যাওয়ার বিষয়টি মেয়র স্বয়ং জানেন না বলে দাবি করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

পুরসভার অন্দরে সমন্বয়হীনতা ও আগামী প্রভাব

লোকসভা ভোটের পর শহরের একাধিক জায়গায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে পুরসভা। তবে এই অতি-সক্রিয়তার মাঝেই পুরসভার অন্দরে কানাঘুষো চলছে যে মেয়রকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদের তরফে ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বিতর্ক এড়াতে শুধু বলেন, এই প্রসঙ্গে পরে কথা বলব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনা, অন্যদিকে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের বাড়িতে কেএমসি-র নোটিশ এবং তা নিয়ে মেয়রের ‘অজ্ঞতা’ প্রকাশ, সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার অন্দরে এক তীব্র টানাপড়েন ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ড্যামেজ কন্ট্রোলে পুর কর্তৃপক্ষ আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *