ভোটের আগেই মাঠ ছাড়ল ‘পুষ্পা’, কার ইশারায় ময়দান থেকে হঠাৎ ‘উধাও’ ফলতার ডন জাহাঙ্গীর?

ভোটের আগেই মাঠ ছাড়ল ‘পুষ্পা’, কার ইশারায় ময়দান থেকে হঠাৎ ‘উধাও’ ফলতার ডন জাহাঙ্গীর?

আগামী ২১ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। কিন্তু প্রচারের একেবারে শেষলগ্নে এসে সেখানে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় পটপরিবর্তন। রাজনৈতিক মহলে এবং অনুগামীদের কাছে ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত ফলতার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান হঠাৎ করেই নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করেছেন। দলের পক্ষ থেকে যেখানে জয় নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামা হয়েছিল, সেখানে প্রার্থীর এই আকস্মিক ঘোষণা পুরো জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে।

‘শান্তি ও উন্নয়ন’-এর যুক্তি বনাম রাজনৈতিক চাপ

ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর পেছনে জাহাঙ্গীর খান অবশ্য সম্পূর্ণ একটি ‘জনকল্যাণমুখী’ তত্ত্ব খাড়া করেছেন। তাঁর দাবি, ফলতার বুকে শান্তি বজায় রাখা এবং এলাকার উন্নয়নের ধারাকে সচল রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি চান না ভোটের কারণে সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি হোক বা অশান্তি ছড়াক। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুক্তি পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের মতে, এই ত্যাগের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর কোনো রাজনৈতিক চাল অথবা আইনি জটিলতার বড়সড় চাপ।

আদালতের রক্ষাকবচ এবং ভায়রাভাইয়ের গ্রেফতারি

জাহাঙ্গীরের এই সরে দাঁড়ানোর সময়জ্ঞান নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠছে। এর ঠিক আগেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস থেকে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেয়েছিলেন তিনি। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, আগামী ২৬ মে পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে না পুলিশ। তবে আইনি ঢাল দিলেও আদালত জাহাঙ্গীরের জন্য লক্ষ্মণরেখা টেনে দিয়েছিল। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনোভাবেই ভোটারদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া যাবে না।

আইনি দিক থেকে সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও ২১ মে-র ভোটের ঠিক মুখে কেন তিনি লড়াই ছাড়লেন, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। ফলতার রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, জাহাঙ্গীরের এই পিছু হটার পেছনে রয়েছে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে পুলিশের বড়সড় ধাক্কা। পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তেই পুলিশি জালে ধরা পড়েন জাহাঙ্গীরের ভায়রাভাই, যিনি আবার ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি। একদিকে আদালতের কড়া নজরদারি এবং অন্যদিকে নিজের খাসতালুকে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের গ্রেফতারি—এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপেই ফলতার ‘পুষ্পা’ শেষ মুহূর্তে রণে ভঙ্গ দিলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তৃণমূলের অস্বস্তি ও বিরোধীদের কটাক্ষ

জাহাঙ্গীর খানের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে বিরোধীরা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আইনি ভয়ের বহিঃপ্রকাশ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তবে তৃণমূলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গীরের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি দল দাবি করেছে, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে ফলতায় তাদের ১০০ জনেরও বেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রশাসনের এই প্রচণ্ড চাপের মুখে কিছু মানুষ শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে না পেরে ময়দান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। প্রার্থীর এই আকস্মিক প্রস্থানে ভোটের ঠিক আগে ফলতায় চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *