অভিষেকের দুর্গে শুভেন্দুর মেগা শো ঘিরে তপ্ত ফলতা, আরজি কর কাণ্ডেও নজিরবিহীন পদক্ষেপ

অভিষেকের দুর্গে শুভেন্দুর মেগা শো ঘিরে তপ্ত ফলতা, আরজি কর কাণ্ডেও নজিরবিহীন পদক্ষেপ

আগামী ২১ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। তার আগে প্রচারের শেষলগ্নে ফলতায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এক ঐতিহাসিক রোড শো করে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে হাসিমনগর থেকে ফলতা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আয়োজিত এই মেগা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হুটখোলা গাড়ি থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই জনসংযোগ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত ফলতায় তৃণমূল শিবিরে বড়সড় কাঁপন ধরিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত ২৯ এপ্রিল ফলতা কেন্দ্রের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন এখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে এই কেন্দ্রে জোর টক্কর দিচ্ছে বিজেপি। নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের বাড়িতেও মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার কথা রয়েছে। এই হেভিওয়েট প্রচারের ফলে ভোটের সমীকরণ যেমন বদলে যেতে পারে, তেমনই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সন্দীপ ঘোষের বিচারে মিলল আইনি ছাড়পত্র

ফলতার রাজনৈতিক লড়াইয়ের সমান্তরালে, কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র (Prosecution Sanction) দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই বড় সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছেন।

আরজি করের সেই নৃশংস ঘটনার পর সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল। নির্যাতিতার পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন মহলের অভিযোগ ছিল, পূর্বতন রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি না দেওয়ার টালবাহানার কারণেই সিবিআই তদন্তের গতি থমকে গিয়েছিল। এবার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার সামলানোর পরেই সেই আইনি জট কাটলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই সিদ্ধান্তের ফলে আরজি কর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতি পাবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পথে রাজ্য এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *