এবার অভিষেকের কো ম্পা নি ও মাকে নোটিস, ৭ দিনে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ ‘তৃণমূলের’ পুরসভার!

এবার অভিষেকের কোম্পানি ও মাকে নোটিস, ৭ দিনে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ ‘তৃণমূলের’ পুরসভার!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার সরাসরি রাজনৈতিক ও আইনি ধাক্কা আছড়ে পড়ল বিদায়ী শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবারে। বেআইনি ও নকশা বহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-কে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। ১৮ মে তারিখের এই দুটি নোটিস ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাটে জোড়া নোটিস

কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের বরো-৯, ওয়ার্ড নম্বর ৭৩-এর পক্ষ থেকে ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোডের ঠিকানায় ‘মেসার্স লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ‘দ্য কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ১৯৮০’-এর ৪০০(১) ধারা মোতাবেক জারি করা এই নোটিশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে গিয়ে ভবনের যে অংশগুলি বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, তা নোটিস পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় কেন তা ভেঙে ফেলা হবে না, তা নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে সমমানের নোটিস পাঠানো হয়েছে ১২১, কালীঘাট রোডের ঠিকানায় লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেও। সেখানেও মূল নকশার বাইরে গিয়ে করা অননুমোদিত নির্মাণ আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অথবা এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দুটি নোটিসই ভবনের লিফট, এসকেলেটর-সহ সমস্ত কাঠামোগত বিবরণী ও ‘অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িং’ আগামী ৭ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কড়া ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

পুরসভার নোটিসে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি ৭ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ পালন না করা হয়, তবে মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী পুরসভা নিজেই ওই অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করবে। একই সঙ্গে এই ভাঙার কাজে যে খরচ হবে, তা সংশ্লিষ্ট মালিক বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির কাছ থেকেই উসুল করা হবে।

কলকাতা পুরসভা এখনও ঘাসফুল শিবিরের দখলে থাকলেও, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই ঐতিহ্যবাহী পুরভবনের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপে বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই খোদ কলকাতার বুকে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবারের বিরুদ্ধে পুরসভার এই নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *