বিনামূল্যে আধার আপডেটের মেয়াদ বাড়ল ২০২৭ পর্যন্ত, বন্ধ হচ্ছে পুরানো অ্যাপ

ভারতের কোটি কোটি আধার কার্ড ব্যবহারকারীর জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর দিল ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)। অনলাইনে বিনামূল্যে আধার কার্ডের তথ্য সংশোধন ও আপডেট করার সময়সীমা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি আধার ব্যবহারে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম এবং বন্ধ হতে চলেছে পুরানো মোবাইল অ্যাপটি।
দীর্ঘদিন ধরে আধার কার্ডের তথ্য আপডেট না করা নাগরিকদের সচেতন করতেই সরকারের এই পদক্ষেপ। বিশেষ করে যারা বহু বছর আগে আধার কার্ড তৈরি করেছিলেন কিন্তু মাঝের সময়ে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানা পরিবর্তন হলেও তা নথিবদ্ধ করেননি, তাদের দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক সাড়া এবং অনলাইন প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতেই সরকার এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন আধার অ্যাপ
প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ ও সুরক্ষার স্বার্থে UIDAI তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জানিয়েছে যে, পুরানো ‘এম-আধার’ (mAadhaar) অ্যাপটি শীঘ্রই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে ব্যবহারকারীদের নতুন আধার অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই অ্যাপটিতে উন্নত এবং সুরক্ষিত কিউআর (QR) কোড ভিত্তিক আধার শেয়ারিং ব্যবস্থা, শক্তিশালী গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ এবং অত্যন্ত সহজ ডিজিটাল অ্যাক্সেসের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা আরও নিশ্চিত করবে।
বিনামূল্যে আপডেটের নিয়ম ও প্রভাব
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিনামূল্যে আধার কার্ডের তথ্য সংশোধনের এই বিশেষ সুবিধাটি শুধুমাত্র অনলাইনে ‘মাইআধার’ (myAadhaar) পোর্টালের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। কোনো নাগরিক যদি আধার সেন্টারে গিয়ে সশরীরে এই কাজ করতে চান, তবে তাকে আগের মতোই নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।
অনলাইনে আধার আপডেট করার জন্য ব্যবহারকারীকে প্রথমে পোর্টালে গিয়ে আধার নম্বর ও ওটিপি (OTP) দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর প্রোফাইলের তথ্য যাচাই করে ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে। আপলোড করা ফাইলটির সাইজ ২ মেগাবাইটের কম এবং তা JPEG, PNG বা PDF ফরম্যাটে হওয়া আবশ্যক।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের যেমন আর্থিক সাশ্রয় হবে, তেমনই আধার ডেটাবেস আরও নির্ভুল ও সুরক্ষিত হয়ে উঠবে। একই সাথে নতুন অ্যাপের সংযোজন ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে এবং নাগরিকদের আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।