হরমুজ সংকটের আবহে ফ্রান্সে মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি ও ট্রাম্প

হরমুজ সংকটের আবহে ফ্রান্সে মুখোমুখি হচ্ছেন মোদি ও ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে। তীব্র জ্বালানি সংকটের এই বৈশ্বিক আবহে আগামী মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেড় বছরের দীর্ঘ বিরতির পর দুই বিশ্বনেতার এই সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মোদি সেখানে যোগ দিচ্ছেন এবং সম্মেলন চলাকালীনই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে শেষবার তাঁরা মুখোমুখি বসেছিলেন।

মহাসংকটে হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব বাণিজ্য

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী বলা হয়। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ইরান এই জলপথ রুদ্ধ করে রেখেছে। এর জবাবে তেহরানকে পালটা চাপে রাখতে অঞ্চলটিতে অবস্থান নিয়েছে একাধিক মার্কিন রণতরী। এই সামরিক উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বৈঠকের সম্ভাব্য প্রভাব

এই বৈঠকের ওপর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনেক সমীকরণ নির্ভর করছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসনে আমেরিকা ও ভারতের যৌথ কৌশল কী হবে, তা নির্ধারিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে বিকল্প কোনো বাণিজ্যিক নিশ্চয়তা বা কৌশলগত সহযোগিতা পায় কি না, তা স্পষ্ট হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি-ট্রাম্পের এই আলোচনার সিদ্ধান্ত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল করতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *